ঢাকা ০৩:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পূবাইলে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার, নগদ ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা উদ্ধার। আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই–খুলনায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী। চিতলমারীতে দোকানিকে গলাকেটে হত্যা। চুয়াডাঙ্গার হায়দারপুরের সাইম ও তার পিতা আজিজুল হক স্বপনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ:থানায় অভিযোগ দায়ের। কুলিয়ারচরে প্রেমের সম্পর্ক থেকে ধর্ষন, আসামী গ্রেফতার। দত্তনগর কৃষি খামারের প্রাচীর নির্মাণে পুকুর চুরির অভিযোগ -পূণঃনির্মাণের দাবী। আলমডাঙ্গা তন্তবায় সমবায় সমিতির ৮০ লাখ টাকা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লুটপাট করার অভিযোগ। তিতুদহে বিপন্ন গন্ধগোকুলের পাঁচ বাচ্চাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিল পরিবেশবাদী সংগঠন। আলমডাঙ্গায় মাদক মামলার ৯ আসামীকে আটক করে করেছে থানা পুলিশ। ইকরতলী গাউছিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা: শিক্ষা ও মানবিকতার আলোয় বদলে যাচ্ছে একটি জনপদ।

ওয়ান ইলেভেনের সময় তারেক রহমানের আলোচিত মামলায় জামিন ‘আইন মেনেই সিদ্ধান্ত’ দেন সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীন।

Sapla News
  • আপডেট সময় : ১২:৩৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬ ১১৩ বার পড়া হয়েছে

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন স্টাফ রিপোর্টার, চুুয়াডাঙ্গা :-

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের কৃতি সন্তান, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীন ২০০৮ সালের বহুল আলোচিত তারেক জিয়ার এক জামিন শুনানিকে ঘিরে নিজের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, সেদিন যদি আইনের আলোকে দৃঢ় সিদ্ধান্ত না নিতাম, হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে গড়াতো।

২০০৮ সালে আপিল বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর জামিন শুনানি নিয়ে আদালত কক্ষে ছিল উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ ও অদৃশ্য চাপ এমনটাই দাবি করেন তিনি। ওপরে থেকে বার্তা ছিল, কোনোভাবেই জামিন নয়। কিন্তু বিচারকের শপথ আমাকে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে, বলেন সাবেক এই বিচারপতি।

তিনি জানান, সহকর্মীদের মধ্যেও শঙ্কা ছিল। তবে তার অবস্থান ছিল স্পষ্ট জামিন পাওয়ার আইনগত অধিকার থাকলে বিচারক হিসেবে তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।
২০০৪ সালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলার তদন্ত-সংক্রান্ত দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত ছিল। ওই ঘটনায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা-সহ বহু নেতাকর্মী আহত হন। তদন্ত চলাকালে রাজনৈতিক চাপের কথা উল্লেখ করে বিচারপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, একটি পক্ষ চেয়েছিল বিএনপি ও তারেক রহমানকে সরাসরি জড়াতে। কিন্তু আমি রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রমাণকে প্রাধান্য দিয়েছি।

স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাকে বড় ছেলের মতো স্নেহ করতেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়া একাধিকবার স্নেহভরে তাকে উৎসাহমূলক কথা বলেছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আদালতে আমি কখনো ব্যক্তি বা আবেগকে প্রাধান্য দিইনি,আইনই ছিল একমাত্র বিবেচ্য।

জামিন সিদ্ধান্তের পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় নিজেকে বঞ্চিত মনে করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন । জ্যেষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও প্রধান বিচারপতি হওয়ার সুযোগ পাননি এমন অভিযোগ তুললেও তার বক্তব্যে ক্ষোভের চেয়ে দৃঢ়তাই বেশি। আমি যা করেছি, শপথ রক্ষার জন্যই করেছি, বলেন তিনি।

১৯৫২ সালে দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন জয়নুল আবেদীন। পরে চুয়াডাঙ্গা ভি.জে. স্কুল থেকে ১৯৫৭ সালে এসএসসি উত্তীর্ণ হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ওয়ান ইলেভেনের সময় তারেক রহমানের আলোচিত মামলায় জামিন ‘আইন মেনেই সিদ্ধান্ত’ দেন সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীন।

আপডেট সময় : ১২:৩৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন স্টাফ রিপোর্টার, চুুয়াডাঙ্গা :-

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের কৃতি সন্তান, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীন ২০০৮ সালের বহুল আলোচিত তারেক জিয়ার এক জামিন শুনানিকে ঘিরে নিজের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, সেদিন যদি আইনের আলোকে দৃঢ় সিদ্ধান্ত না নিতাম, হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে গড়াতো।

২০০৮ সালে আপিল বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর জামিন শুনানি নিয়ে আদালত কক্ষে ছিল উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ ও অদৃশ্য চাপ এমনটাই দাবি করেন তিনি। ওপরে থেকে বার্তা ছিল, কোনোভাবেই জামিন নয়। কিন্তু বিচারকের শপথ আমাকে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে, বলেন সাবেক এই বিচারপতি।

তিনি জানান, সহকর্মীদের মধ্যেও শঙ্কা ছিল। তবে তার অবস্থান ছিল স্পষ্ট জামিন পাওয়ার আইনগত অধিকার থাকলে বিচারক হিসেবে তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।
২০০৪ সালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলার তদন্ত-সংক্রান্ত দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত ছিল। ওই ঘটনায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা-সহ বহু নেতাকর্মী আহত হন। তদন্ত চলাকালে রাজনৈতিক চাপের কথা উল্লেখ করে বিচারপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, একটি পক্ষ চেয়েছিল বিএনপি ও তারেক রহমানকে সরাসরি জড়াতে। কিন্তু আমি রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রমাণকে প্রাধান্য দিয়েছি।

স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাকে বড় ছেলের মতো স্নেহ করতেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়া একাধিকবার স্নেহভরে তাকে উৎসাহমূলক কথা বলেছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আদালতে আমি কখনো ব্যক্তি বা আবেগকে প্রাধান্য দিইনি,আইনই ছিল একমাত্র বিবেচ্য।

জামিন সিদ্ধান্তের পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় নিজেকে বঞ্চিত মনে করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন । জ্যেষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও প্রধান বিচারপতি হওয়ার সুযোগ পাননি এমন অভিযোগ তুললেও তার বক্তব্যে ক্ষোভের চেয়ে দৃঢ়তাই বেশি। আমি যা করেছি, শপথ রক্ষার জন্যই করেছি, বলেন তিনি।

১৯৫২ সালে দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন জয়নুল আবেদীন। পরে চুয়াডাঙ্গা ভি.জে. স্কুল থেকে ১৯৫৭ সালে এসএসসি উত্তীর্ণ হন।