ঢাকা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আলমডাঙ্গায় মাদক মামলার ৯ আসামীকে আটক করে করেছে থানা পুলিশ। ইকরতলী গাউছিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা: শিক্ষা ও মানবিকতার আলোয় বদলে যাচ্ছে একটি জনপদ। মেধা ও স্বচ্ছতার অঙ্গীকারে চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন। চুয়াডাঙ্গায় মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হলো মাদকসহ দেশীয় অস্ত্রপাতি। চুয়াডাঙ্গায় ট্রাফিক বিভাগের এপ্রিল মাসের চেকপোস্ট কার্যক্রমে বিপুল সংখ্যক যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের তথ্য প্রকাশ। চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপদ বিভাগ-সওজ’র দু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ। জাতীয় সংসদ নির্বাচন উত্তর শঙ্করচন্দ্রে ইউনিয়নে সাংগঠনিক সফরে শরীফুজ্জামান শরীফ-“শক্ত নেতৃত্ব ও ঐক্যই রাজনীতির চালিকা শক্তি। ​দর্শনা পৌরসভায় ভুয়া ওয়ারিশ সনদ বাণিজ্য: প্রকৃত উত্তরাধিকারীরা বঞ্চিত। তিতুদহ এলাকায় বন্য খরগোশ শিকার ও হত্যার দায়ে ৪ জনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দেয়া হয় ১০ দিনের বিনাশ্রম দন্ড। দেশের উন্নয়নে শ্রমিকদের ভূমিকা অগ্রগন্য -প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম।

চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপদ বিভাগ-সওজ’র দু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ।

Sapla News
  • আপডেট সময় : ০৩:২৭:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

জীবননগর উপজেলায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত একটি সড়ক নির্মান প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মহাসড়কের দুই পাশে বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে দেদারসে ব্যবহার করা হচ্ছে মাটি। এমনকি খোয়া হিসেবে নিম্নমানের ও পুরোনো ইটের টুকরো ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তদারকি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই ‘হরিলুট’ চালাচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের
-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের মিলপাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে প্রশস্তকরণ কাজে যে বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে, তাতে বালুর চেয়ে মাটির পরিমাণই বেশি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বালু দিয়ে কাজ করলে বর্ষার শুরুতেই রাস্তা ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া খোয়া হিসেবে ব্যবহৃত ইটের মান ও মাপ কোনোটিই সিডিউল অনুযায়ী হচ্ছে না।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা লোকনাথপুর থেকে জীবননগর হাসপাতাল গেট পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়কের এই কাজটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। যশোরের ঠিকাদার মইনুদ্দিন বাঁশি এই কাজটি বাস্তবায়ন করছেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইড ইঞ্জিনিয়ার আলামিন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা কোনো অনিয়ম করছি না। সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী ও সুপারভাইজার উপস্থিত থেকেই এই বালি ও খোয়া মিশ্রণ করে পাঠিয়েছেন। তাঁদের অনুমতি ছাড়া কিছু হচ্ছে না।”

নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের চুয়াডাঙ্গা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান এক অদ্ভুত দাবি করেন। তিনি বলেন, “দেখতে মাটির মতো মনে হলেও আসলে এগুলো বালুই! এগুলো কুষ্টিয়া থেকে আনা হয়েছে এবং ল্যাব টেস্টেও এর প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।” তবে খোয়ার বিষয়ে তিনি স্বীকার করেন যে, সেখানে কিছু ‘পুরানো ইটের খোয়া’ থাকতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান এবং সুপারভাইজার শাহীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এই ‘অশুভ আঁতাতের’ কারণেই প্রকাশ্যে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত এই মহাসড়কটি যেন তড়িঘড়ি করে দায়সারাভাবে করা না হয়। তাঁরা এই অনিয়মের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপদ বিভাগ-সওজ’র দু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ।

আপডেট সময় : ০৩:২৭:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

জীবননগর উপজেলায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত একটি সড়ক নির্মান প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মহাসড়কের দুই পাশে বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে দেদারসে ব্যবহার করা হচ্ছে মাটি। এমনকি খোয়া হিসেবে নিম্নমানের ও পুরোনো ইটের টুকরো ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তদারকি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই ‘হরিলুট’ চালাচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের
-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের মিলপাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে প্রশস্তকরণ কাজে যে বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে, তাতে বালুর চেয়ে মাটির পরিমাণই বেশি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বালু দিয়ে কাজ করলে বর্ষার শুরুতেই রাস্তা ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া খোয়া হিসেবে ব্যবহৃত ইটের মান ও মাপ কোনোটিই সিডিউল অনুযায়ী হচ্ছে না।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা লোকনাথপুর থেকে জীবননগর হাসপাতাল গেট পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়কের এই কাজটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। যশোরের ঠিকাদার মইনুদ্দিন বাঁশি এই কাজটি বাস্তবায়ন করছেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইড ইঞ্জিনিয়ার আলামিন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা কোনো অনিয়ম করছি না। সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী ও সুপারভাইজার উপস্থিত থেকেই এই বালি ও খোয়া মিশ্রণ করে পাঠিয়েছেন। তাঁদের অনুমতি ছাড়া কিছু হচ্ছে না।”

নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের চুয়াডাঙ্গা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান এক অদ্ভুত দাবি করেন। তিনি বলেন, “দেখতে মাটির মতো মনে হলেও আসলে এগুলো বালুই! এগুলো কুষ্টিয়া থেকে আনা হয়েছে এবং ল্যাব টেস্টেও এর প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।” তবে খোয়ার বিষয়ে তিনি স্বীকার করেন যে, সেখানে কিছু ‘পুরানো ইটের খোয়া’ থাকতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান এবং সুপারভাইজার শাহীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এই ‘অশুভ আঁতাতের’ কারণেই প্রকাশ্যে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত এই মহাসড়কটি যেন তড়িঘড়ি করে দায়সারাভাবে করা না হয়। তাঁরা এই অনিয়মের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন।