ঢাকা ১২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পূবাইলে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার, নগদ ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা উদ্ধার। আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই–খুলনায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী। চিতলমারীতে দোকানিকে গলাকেটে হত্যা। চুয়াডাঙ্গার হায়দারপুরের সাইম ও তার পিতা আজিজুল হক স্বপনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ:থানায় অভিযোগ দায়ের। কুলিয়ারচরে প্রেমের সম্পর্ক থেকে ধর্ষন, আসামী গ্রেফতার। দত্তনগর কৃষি খামারের প্রাচীর নির্মাণে পুকুর চুরির অভিযোগ -পূণঃনির্মাণের দাবী। আলমডাঙ্গা তন্তবায় সমবায় সমিতির ৮০ লাখ টাকা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লুটপাট করার অভিযোগ। তিতুদহে বিপন্ন গন্ধগোকুলের পাঁচ বাচ্চাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিল পরিবেশবাদী সংগঠন। আলমডাঙ্গায় মাদক মামলার ৯ আসামীকে আটক করে করেছে থানা পুলিশ। ইকরতলী গাউছিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা: শিক্ষা ও মানবিকতার আলোয় বদলে যাচ্ছে একটি জনপদ।

চুয়াডাঙ্গায় পুরোনো ছবি ছড়িয়ে প্রতিমা ভাঙচুরের গুজব, ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে প্রশাসন।

  • আপডেট সময় : ০৮:৫৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮৯ বার পড়া হয়েছে

শিমুল রেজা:-
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলতদিয়াড় দক্ষিণপাড়া বারোয়ারী দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে গুজব তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের তৎপরতায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিশ্চিত করা হয়েছে—এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর ‘uttam div’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রতিমার হাত ভাঙা অবস্থার ছবি পোস্ট করে দাবি করা হয়, মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে। একইসঙ্গে ‘৬৪ জেলা সনাতনী পরিবার’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপেও পোস্টটি শেয়ার হয়। মুহূর্তেই বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ইউএনও এম. সাইফুল্লাহ ও সদর থানার ওসি খালেদুর রহমান দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে তারা দেখেন, মন্দিরে ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী সঞ্জয় কুমার সাধুখা বলেন, “আমাদের মন্দিরে কোনো প্রতিমা ভাঙচুর হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ছবি ছড়ানো হয়েছে তা দুই বছর আগের। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তখন এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ছবি ব্যবহার করে এখন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। আমরা গুজবকারীদের দ্রুত সনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি আরও জানান, গুজব ছড়িয়ে পড়ার পরপরই প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে মন্দির নিরাপদ রয়েছে।

খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা, ইউএনও এম. সাইফুল্লাহ, সদর থানার ওসি খালেদুর রহমান এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা হেমন্ত কুমার সিংহ রায় মন্দির পরিদর্শন করেন। তারা মন্দির কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করেন—গুজব ছড়ানোদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. সাইফুল্লাহ বলেন, “পুরোনো ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয়েছে। আমরা দ্রুত মন্দির পরিদর্শন করেছি ও নিরাপত্তা জোরদার করেছি। তৃতীয় পক্ষ যাতে সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি।”

চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা বলেন, “গুজব ছড়িয়ে কেউ যেন পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে না পারে, সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সবাইকে বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চুয়াডাঙ্গায় পুরোনো ছবি ছড়িয়ে প্রতিমা ভাঙচুরের গুজব, ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে প্রশাসন।

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শিমুল রেজা:-
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলতদিয়াড় দক্ষিণপাড়া বারোয়ারী দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে গুজব তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের তৎপরতায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিশ্চিত করা হয়েছে—এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর ‘uttam div’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রতিমার হাত ভাঙা অবস্থার ছবি পোস্ট করে দাবি করা হয়, মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে। একইসঙ্গে ‘৬৪ জেলা সনাতনী পরিবার’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপেও পোস্টটি শেয়ার হয়। মুহূর্তেই বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ইউএনও এম. সাইফুল্লাহ ও সদর থানার ওসি খালেদুর রহমান দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে তারা দেখেন, মন্দিরে ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী সঞ্জয় কুমার সাধুখা বলেন, “আমাদের মন্দিরে কোনো প্রতিমা ভাঙচুর হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ছবি ছড়ানো হয়েছে তা দুই বছর আগের। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তখন এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ছবি ব্যবহার করে এখন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। আমরা গুজবকারীদের দ্রুত সনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি আরও জানান, গুজব ছড়িয়ে পড়ার পরপরই প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে মন্দির নিরাপদ রয়েছে।

খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা, ইউএনও এম. সাইফুল্লাহ, সদর থানার ওসি খালেদুর রহমান এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা হেমন্ত কুমার সিংহ রায় মন্দির পরিদর্শন করেন। তারা মন্দির কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করেন—গুজব ছড়ানোদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. সাইফুল্লাহ বলেন, “পুরোনো ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয়েছে। আমরা দ্রুত মন্দির পরিদর্শন করেছি ও নিরাপত্তা জোরদার করেছি। তৃতীয় পক্ষ যাতে সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি।”

চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা বলেন, “গুজব ছড়িয়ে কেউ যেন পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে না পারে, সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সবাইকে বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।