দর্শনা বেগমপুর ইউনিয়ন পর্ষদের দুজনকে জন্মসনদ জালিয়াতির অভিযোগ গ্রেফতার।
- আপডেট সময় : ১১:৪৭:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন চলা জন্মনিবন্ধন জালিয়াতির একটি সিন্ডিকেটের সন্ধান পেয়ে অভিযান চালিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে।এ ঘটনায় ফেঁসে যেতে পারে অনেকে।এমন অভিযোগ নেহালপুর ইউনিয়ন পর্ষদের উদ্যোক্তার বিরুদ্ধেও রয়েছে।
তথ্য বিবরণীতে জানা যায়,শনিবার (৯ মে) সকালে অভিযুক্তদের দর্শনা থানা হেফাজতের নেয়া হয়েছে।অভিযুক্তরা হলেন বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রায়হান মাহমুদ (৩৫) ও উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম (৩০)। তারা দীর্ঘদিন অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের ভুয়া ঠিকানায় জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করে আসছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলার লোকজনকে বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা দেখিয়ে ডিজিটাল জন্মসনদ দিতেন।
ঘটনার ধরা পড়ে বৃহস্পতিবার এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির অভিযোগের মাধ্যমে, যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসিয়াল নম্বরে পাঠানো হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়।সরেজমিন তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশ্চিত হন যে, যাদের নামে জন্মনিবন্ধন করা হয়েছে তারা কেউই বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নন, এমনকি স্থানীয় লোকজনও তাদের চেনেন না।
তদন্তে আরো উঠে আসে, ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত নিবন্ধন আইডি অপব্যবহার করে উদ্যোক্তা আরিফুল নিজেই জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন অসদুপায়ে জন্মনিবন্ধন তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণা, এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করা হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: আশরাফুল ইসলাম দর্শনা থানায় এজাহার দায়ের করেন। মামলায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়।এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ইতোমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, জালিয়াতির সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, জন্মনিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবা ব্যবস্থায় এ ধরনের অনিয়ম ডিজিটাল নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য বড় হুমকি।















