ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দর্শনা বেগমপুর ইউনিয়ন পর্ষদের দুজনকে জন্মসনদ জালিয়াতির অভিযোগ গ্রেফতার। ডিঙ্গেদহের শঙ্করচন্দ্র গ্রামের আলিমুদ্দিনকে পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে কিল ঘুষি মেরে হত্যার অভিযোগ। পূবাইলে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার, নগদ ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা উদ্ধার। আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই–খুলনায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী। চিতলমারীতে দোকানিকে গলাকেটে হত্যা। চুয়াডাঙ্গার হায়দারপুরের সাইম ও তার পিতা আজিজুল হক স্বপনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ:থানায় অভিযোগ দায়ের। কুলিয়ারচরে প্রেমের সম্পর্ক থেকে ধর্ষন, আসামী গ্রেফতার। দত্তনগর কৃষি খামারের প্রাচীর নির্মাণে পুকুর চুরির অভিযোগ -পূণঃনির্মাণের দাবী। আলমডাঙ্গা তন্তবায় সমবায় সমিতির ৮০ লাখ টাকা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লুটপাট করার অভিযোগ। তিতুদহে বিপন্ন গন্ধগোকুলের পাঁচ বাচ্চাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিল পরিবেশবাদী সংগঠন।

লাউয়ের পাতা সিন্ধ করে,ইফতারি করছে পরিবারটি! শুধু পানি খেয়ে রোজা রাখছে তারা! ।

Sapla News
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ ১৬২ বার পড়া হয়েছে

 

নাটোর প্রতিনিধি

হায়রে ভাগ্য! ইফতারে শুধু লাউ শাক খেয়ে রোজা ভাঙ্গেন পরিবারটি,তারপর সারারাত দিন না খেয়ে থাকতে অসহায় পরিবারটির।

প্রায় দুই বছর আগে দুর্ঘটনায় সেলিনার স্বামী জহুরুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পরেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এমন অবস্থায় চরম দুর্দশায় পড়ে যায় তার পরিবার। এরপর থেকেই অর্ধাহার-অনাহারে মানবেতর জীবন পার করছেন সেলিনার প্রতিবন্ধী ২ মেয়েসহ ৬ সদস্যের পরিবার। সেলিনার পরিবারে ২ প্রতিবন্ধী মেয়ে,দুই বছর বয়েসী ১ ছেলে,স্বামী,শ্বাশুরিসহ মোট ৬ জন।

নাটোরের নলডাঙ্গার পিপরুল ইউনিয়নের আঁচড়াখালি গ্রামের একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক এই চিত্র। অভাব-অনটনের কারণে কখনো শুধু পানি খেয়ে,আবার কখনো শাক-পাতা শুধু সাদা ভাত খেয়েই সেহরি ও ইফতার করতে হচ্ছে,সেলিনা বেগম ও তার স্বামী সন্তানদের।

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতা তাদের জীবনকে করে তুলেছে অসহায়। সেলিনার ৬ জন সদস্যের পরিবারে,ঈদে সন্তানসহ অসু্স্থ স্বামী,শ্বাশুরি কাপড় কেনা তাদের কাছে স্বপ্ন।

সেলিনার পরিবার সকলের জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার। উপার্জনের কোন পথ না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে পরিবারটির।

লাউ পাতা সিন্ধ হলে,তা ইফতারে খাওয়ার জন্য,
মা সেলিনা বেগমের পাশে অসহায় হয়ে বসে আছে,প্রতিবন্ধী দুই মেয়ে।

এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা বলেন,অসুস্থ স্বামী,প্রতিবন্ধী সন্তানদের নিয়ে ঝুপড়ি ঘরে থাকি। বৃষ্টিতে ভিজি, রোদে শুকাই। আগে বাবা আমার খোঁজ নিত, কিন্তু প্রায় এক বছর আগে সেও মারা গেছে। এখন আমাদের দেখার কেউ নাই। সন্তানরা ভালো খাবার চায়, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য নাই। অনেক সময় শুধু পানি,শাকপাতা দিয়েই সেহরি-ইফতার করি।
সরকার ও সমাজের বৃত্তবানদের পাশে চান এই পরিবারটি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

লাউয়ের পাতা সিন্ধ করে,ইফতারি করছে পরিবারটি! শুধু পানি খেয়ে রোজা রাখছে তারা! ।

আপডেট সময় : ০৯:৫৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

 

নাটোর প্রতিনিধি

হায়রে ভাগ্য! ইফতারে শুধু লাউ শাক খেয়ে রোজা ভাঙ্গেন পরিবারটি,তারপর সারারাত দিন না খেয়ে থাকতে অসহায় পরিবারটির।

প্রায় দুই বছর আগে দুর্ঘটনায় সেলিনার স্বামী জহুরুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পরেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এমন অবস্থায় চরম দুর্দশায় পড়ে যায় তার পরিবার। এরপর থেকেই অর্ধাহার-অনাহারে মানবেতর জীবন পার করছেন সেলিনার প্রতিবন্ধী ২ মেয়েসহ ৬ সদস্যের পরিবার। সেলিনার পরিবারে ২ প্রতিবন্ধী মেয়ে,দুই বছর বয়েসী ১ ছেলে,স্বামী,শ্বাশুরিসহ মোট ৬ জন।

নাটোরের নলডাঙ্গার পিপরুল ইউনিয়নের আঁচড়াখালি গ্রামের একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক এই চিত্র। অভাব-অনটনের কারণে কখনো শুধু পানি খেয়ে,আবার কখনো শাক-পাতা শুধু সাদা ভাত খেয়েই সেহরি ও ইফতার করতে হচ্ছে,সেলিনা বেগম ও তার স্বামী সন্তানদের।

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতা তাদের জীবনকে করে তুলেছে অসহায়। সেলিনার ৬ জন সদস্যের পরিবারে,ঈদে সন্তানসহ অসু্স্থ স্বামী,শ্বাশুরি কাপড় কেনা তাদের কাছে স্বপ্ন।

সেলিনার পরিবার সকলের জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার। উপার্জনের কোন পথ না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে পরিবারটির।

লাউ পাতা সিন্ধ হলে,তা ইফতারে খাওয়ার জন্য,
মা সেলিনা বেগমের পাশে অসহায় হয়ে বসে আছে,প্রতিবন্ধী দুই মেয়ে।

এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা বলেন,অসুস্থ স্বামী,প্রতিবন্ধী সন্তানদের নিয়ে ঝুপড়ি ঘরে থাকি। বৃষ্টিতে ভিজি, রোদে শুকাই। আগে বাবা আমার খোঁজ নিত, কিন্তু প্রায় এক বছর আগে সেও মারা গেছে। এখন আমাদের দেখার কেউ নাই। সন্তানরা ভালো খাবার চায়, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য নাই। অনেক সময় শুধু পানি,শাকপাতা দিয়েই সেহরি-ইফতার করি।
সরকার ও সমাজের বৃত্তবানদের পাশে চান এই পরিবারটি।