ঢাকা ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কিশোরগঞ্জের বৃহত্তম গরুর হাটে আড়াই কোটি টাকা রাজস্ব হারালো সরকার। চুয়াডাঙ্গায় শতভাগ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পেল ২১জন তরুণ-তরুণী। চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ ২ জন আটক। হিজলগাড়ী ক্যাম্প পুলিশের তর্জনের চেয়ে গর্জন বেশি– স্হানীয় মাদকের ডিলারদেরকে আটক করতে ব্যর্থ। জীবননগরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: নারী নির্যাতন ও মাদক মামলাসহ গ্রেপ্তার ৯ হিজলগাড়ী ক্যাম্প পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ আটক-২ আলমডাঙ্গা মাঠ থেকে চুরি যাওয়া মোটরবাইক মহেশপুর থেকে উদ্ধার :গ্রেফতার ২ আরডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামানকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়,আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল। চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে ৩৬ লিটার বাংলা মদ ও ১’শ পিচ ইয়াবাসহ আটক-২ মাদক ব্যবসায়ী। চুয়াডাঙ্গায় গ্রাম আদালত শক্তিশালীকরণে অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত।

কিশোরগঞ্জের বৃহত্তম গরুর হাটে আড়াই কোটি টাকা রাজস্ব হারালো সরকার।

Sapla News
  • আপডেট সময় : ০৫:০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ৬৫ বার পড়া হয়েছে

 

ফারজানা আক্তার, (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ

কিশোরগঞ্জের হাওড় উপজেলা নিকলীতে অবস্থিত বৃহত্তম গরুর হাটে এ বছর সরকারের আড়াই কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি।উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নে গুপি রায়ের হাট। সপ্তাহের প্রতি বুধবার এই হাটটি বসে। বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে ক্রেতা বিক্রেতারা এই হাটে আসেন।
তুলনামূলক দাম কম হওয়ায় দূর দূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসেন এই হাটে হাজার হাজার গরু,মহিষ, ছাগল বেচা-কেনা হয় এই হাটে।২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাট এখন কিশোরগঞ্জ জেলার অন্যতম পশু হাট বলে পরিচিতি লাভ করেছে। বাংলা ১৪৩২ সালে উপজেলার সাজন পুর গ্রামের মোহাম্মদ জমশেদ আলী তিন কোটি পচাত্তর লক্ষ পঞ্চাশ হাজার আট শত (৩৭৫৫০৮০০) টাকায় এই হাট ইজারা নিয়েছিলেন।কিন্তু ১৪৩৩ সালে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং বিএনপির নেতা মোকাররম হোসেন সর্দার মাত্র এক কোটি পচিশ লক্ষ (১২৫০০০০০)টাকায় এই হাটটি ইজারা নিয়ে থাকেন। যা বিগত বছরের তুলনায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা রাজস্ব হারালো সরকার।
হাট ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, এই হাটের প্রকৃত সম্ভাব্য আয় গোপন করে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় চলতি বছরে কম মূল্যে এই হাটের ইজারা প্রদান করে স্থানীয় প্রশাসন।২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামিলীগের সিন্ডিকেট চলছে এই হাটে।ব্যক্তিগত কোন স্বার্থের কারনেই বর্তমানেও এই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছে না প্রশাসন এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।
জেলার বৃহত্তম পশুর হাট এটি শুধু মাত্র বানিজ্যিক কেন্দ্রই নয় রাজস্ব উন্নয়নের একটি বড় খাত।উন্মুক্ত ইজারা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এই সিন্ডিকেটের পিছনে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান স্থানীয়রা।
জানা গেছে, চলতি বছরে জমশেদ আলী ইজারা দরপত্রে অংশগ্রহণ করেন নি।এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা বাদ করা হলে তিনি জানান, বিগত বছরে প্রায় ৪ কোটি টাকায় এই হাট ইজারা নিয়ে সরকারের সমুদয় টাকা পরিশোধ করেও আমার অনেক লাভ হয়েছিল।কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের নানা জঠিলতা এবং অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করার পায়তারা আমাকে এ বছর নিরুৎসাহিত করে তুলেছে।
বর্তমান ইজারাদার মোকাররম হোসেন বলেন, আমি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে এই হাটের ইজারা পেয়েছি।এ ব্যাপারে আমার কোনো বক্তব্য নাই।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. রেহেনা মজুমদার মুক্তি জানান , নির্দিষ্ট সময়ে দরপত্র আহ্বান করার পর ১ কোটি ২৫ লাখ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মোকাররম হোসেন সর্দারের নাম আসায় আমরা তাকে ১৪৩৩ সালের জন্য গরুর বাজারটি ইজারা দিয়েছি। গত বছরের দর অনেক বেশি ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর আগের বছর আরও অনেক কম ছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কিশোরগঞ্জের বৃহত্তম গরুর হাটে আড়াই কোটি টাকা রাজস্ব হারালো সরকার।

আপডেট সময় : ০৫:০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

 

ফারজানা আক্তার, (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ

কিশোরগঞ্জের হাওড় উপজেলা নিকলীতে অবস্থিত বৃহত্তম গরুর হাটে এ বছর সরকারের আড়াই কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি।উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নে গুপি রায়ের হাট। সপ্তাহের প্রতি বুধবার এই হাটটি বসে। বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে ক্রেতা বিক্রেতারা এই হাটে আসেন।
তুলনামূলক দাম কম হওয়ায় দূর দূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসেন এই হাটে হাজার হাজার গরু,মহিষ, ছাগল বেচা-কেনা হয় এই হাটে।২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাট এখন কিশোরগঞ্জ জেলার অন্যতম পশু হাট বলে পরিচিতি লাভ করেছে। বাংলা ১৪৩২ সালে উপজেলার সাজন পুর গ্রামের মোহাম্মদ জমশেদ আলী তিন কোটি পচাত্তর লক্ষ পঞ্চাশ হাজার আট শত (৩৭৫৫০৮০০) টাকায় এই হাট ইজারা নিয়েছিলেন।কিন্তু ১৪৩৩ সালে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং বিএনপির নেতা মোকাররম হোসেন সর্দার মাত্র এক কোটি পচিশ লক্ষ (১২৫০০০০০)টাকায় এই হাটটি ইজারা নিয়ে থাকেন। যা বিগত বছরের তুলনায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা রাজস্ব হারালো সরকার।
হাট ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, এই হাটের প্রকৃত সম্ভাব্য আয় গোপন করে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় চলতি বছরে কম মূল্যে এই হাটের ইজারা প্রদান করে স্থানীয় প্রশাসন।২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামিলীগের সিন্ডিকেট চলছে এই হাটে।ব্যক্তিগত কোন স্বার্থের কারনেই বর্তমানেও এই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছে না প্রশাসন এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।
জেলার বৃহত্তম পশুর হাট এটি শুধু মাত্র বানিজ্যিক কেন্দ্রই নয় রাজস্ব উন্নয়নের একটি বড় খাত।উন্মুক্ত ইজারা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এই সিন্ডিকেটের পিছনে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান স্থানীয়রা।
জানা গেছে, চলতি বছরে জমশেদ আলী ইজারা দরপত্রে অংশগ্রহণ করেন নি।এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা বাদ করা হলে তিনি জানান, বিগত বছরে প্রায় ৪ কোটি টাকায় এই হাট ইজারা নিয়ে সরকারের সমুদয় টাকা পরিশোধ করেও আমার অনেক লাভ হয়েছিল।কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের নানা জঠিলতা এবং অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করার পায়তারা আমাকে এ বছর নিরুৎসাহিত করে তুলেছে।
বর্তমান ইজারাদার মোকাররম হোসেন বলেন, আমি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে এই হাটের ইজারা পেয়েছি।এ ব্যাপারে আমার কোনো বক্তব্য নাই।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. রেহেনা মজুমদার মুক্তি জানান , নির্দিষ্ট সময়ে দরপত্র আহ্বান করার পর ১ কোটি ২৫ লাখ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মোকাররম হোসেন সর্দারের নাম আসায় আমরা তাকে ১৪৩৩ সালের জন্য গরুর বাজারটি ইজারা দিয়েছি। গত বছরের দর অনেক বেশি ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর আগের বছর আরও অনেক কম ছিল।