ঢাকা ০৪:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে ৩৬ লিটার বাংলা মদ ও ১’শ পিচ ইয়াবাসহ আটক-২ মাদক ব্যবসায়ী। চুয়াডাঙ্গায় গ্রাম আদালত শক্তিশালীকরণে অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। চুয়াডাঙ্গায় ডিএনসি ‘ র অভিযানে আরো ৫ মাদক কারবারীকে আটক:মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল জরিমানা। ইজিবাইকের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৪ বছরের শিশু রোজার: সেনেরহুদায় শোকের ছায়া। অনলাইন ক্যাসিনো ও অবৈধ ই-ট্রানজেকশন চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে মাসুদ রানা নামে আরো একজন এজেন্টকে গ্রেফতার। সরোজগঞ্জ ক্যাম্প পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে যাদবপুরের সোহেল রানা গ্রেফতার। ডিএনসি আরো দুই মাদক কারবারীকে আটক করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল- হাজতে পাঠিয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৩০ হাজার ৮৪২ মেট্রিকটন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেই ১৩ মে থেকে আম সংগ্রহ। পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সদস্যদের অংশগ্রহণ। দর্শনা বেগমপুর ইউনিয়ন পর্ষদের দুজনকে জন্মসনদ জালিয়াতির অভিযোগ গ্রেফতার।

চুয়াডাঙ্গায় গ্রাম আদালত শক্তিশালীকরণে অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত।

Sapla News
  • আপডেট সময় : ০৪:০৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

 

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ

“তৃণমূলের মানুষের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে গ্রাম আদালতই প্রধান ভরসা”
চুয়াডাঙ্গা জেলার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বল্প সময়ে ও স্বল্প ব্যয়ে ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে জেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয় শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (১৩ মে) জেলা প্রশাসনের আয়োজনে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার সম্মানিত জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার। সভায় মূলত জেলার গ্রাম আদালতগুলোর গত ছয় মাসের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হয় এবং আগামী দিনগুলোতে এই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার মহোদয় বলেন:”গ্রাম আদালত হলো বিচার ব্যবস্থার তৃণমূল ভিত্তি। ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সাধারণ মানুষকে যেন জেলা আদালত বা থানায় দৌড়াতে না হয়, সে জন্যই গ্রাম আদালতকে কার্যকর করা জরুরি। এতে একদিকে যেমন বিচারপ্রার্থীদের অর্থ ও সময় সাশ্রয় হয়, অন্যদিকে জেলা আদালতের মামলার জটও অনেকাংশে হ্রাস পায়।”তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রতি কয়েকটি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন:জনসচেতনতা বৃদ্ধি: সাধারণ মানুষ যেন গ্রাম আদালতের গুরুত্ব বুঝতে পারে, সেজন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও উঠান বৈঠক পরিচালনা করতে হবে।
দক্ষতা উন্নয়ন: গ্রাম আদালতের সচিব ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ ধারণা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: বিচারিক প্রক্রিয়ায় যেন কোনো ধরণের পক্ষপাতিত্ব না থাকে এবং অতি দ্রুততম সময়ে যেন রায় প্রদান করা হয় সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
সমন্বয় সভায় জানানো হয় যে, বিগত ছয় মাসে চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। সভায় উপস্থিত বক্তারা গ্রাম আদালতকে আরও শক্তিশালী করতে বাজেটের সঠিক ব্যবহার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দেন।
সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং গ্রাম আদালত শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয়কারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত সকল প্রতিনিধি জেলা প্রশাসকের দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জেলা প্রশাসনের এই নিয়মিত তদারকি ও নির্দেশনার ফলে চুয়াডাঙ্গায় গ্রাম আদালত একটি আদর্শ মডেলে পরিণত হবে এবং সাধারণ মানুষ হয়রানিমুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে পারবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চুয়াডাঙ্গায় গ্রাম আদালত শক্তিশালীকরণে অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত।

আপডেট সময় : ০৪:০৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

 

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ

“তৃণমূলের মানুষের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে গ্রাম আদালতই প্রধান ভরসা”
চুয়াডাঙ্গা জেলার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বল্প সময়ে ও স্বল্প ব্যয়ে ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে জেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয় শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (১৩ মে) জেলা প্রশাসনের আয়োজনে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার সম্মানিত জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার। সভায় মূলত জেলার গ্রাম আদালতগুলোর গত ছয় মাসের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হয় এবং আগামী দিনগুলোতে এই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার মহোদয় বলেন:”গ্রাম আদালত হলো বিচার ব্যবস্থার তৃণমূল ভিত্তি। ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সাধারণ মানুষকে যেন জেলা আদালত বা থানায় দৌড়াতে না হয়, সে জন্যই গ্রাম আদালতকে কার্যকর করা জরুরি। এতে একদিকে যেমন বিচারপ্রার্থীদের অর্থ ও সময় সাশ্রয় হয়, অন্যদিকে জেলা আদালতের মামলার জটও অনেকাংশে হ্রাস পায়।”তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রতি কয়েকটি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন:জনসচেতনতা বৃদ্ধি: সাধারণ মানুষ যেন গ্রাম আদালতের গুরুত্ব বুঝতে পারে, সেজন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও উঠান বৈঠক পরিচালনা করতে হবে।
দক্ষতা উন্নয়ন: গ্রাম আদালতের সচিব ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ ধারণা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: বিচারিক প্রক্রিয়ায় যেন কোনো ধরণের পক্ষপাতিত্ব না থাকে এবং অতি দ্রুততম সময়ে যেন রায় প্রদান করা হয় সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
সমন্বয় সভায় জানানো হয় যে, বিগত ছয় মাসে চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। সভায় উপস্থিত বক্তারা গ্রাম আদালতকে আরও শক্তিশালী করতে বাজেটের সঠিক ব্যবহার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দেন।
সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং গ্রাম আদালত শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয়কারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত সকল প্রতিনিধি জেলা প্রশাসকের দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জেলা প্রশাসনের এই নিয়মিত তদারকি ও নির্দেশনার ফলে চুয়াডাঙ্গায় গ্রাম আদালত একটি আদর্শ মডেলে পরিণত হবে এবং সাধারণ মানুষ হয়রানিমুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে পারবে।