ইজিবাইকের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৪ বছরের শিশু রোজার: সেনেরহুদায় শোকের ছায়া।
- আপডেট সময় : ০১:০৩:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ৫৯ বার পড়া হয়েছে

জীবননগর প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় রাস্তা পার হওয়ার সময় বিড়ি ভর্তি একটি ইজিবাইকের ধাক্কায় রোজা নামের ৪ বছর বয়সী এক কন্যা শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সেনেরহুদা গ্রামের জিরো পয়েন্ট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রোজা ওই গ্রামের রাজু আহাম্মেদের সন্তান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে শিশু রোজা বাড়ির পাশের একটি দোকানে আচার কেনার জন্য গিয়েছিল। কিন্তু দোকানে কাঙ্ক্ষিত আচার না পাওয়ায় সে হাতে টাকা নিয়েই হাসিমুখে বাড়ির দিকে ফিরছিল।ফেরার পথে সেনেরহুদা জিরো পয়েন্ট এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি ইজিবাইক তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ইজিবাইকটিতে প্রচুর পরিমাণে কালাম বিড়ি বোঝাই করা ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
ধাক্কায় শিশুটি রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। উপস্থিত স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
নিহত শিশুর মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন:
“আমার মেয়েটা মাত্র কয়েকটা টাকা হাতে নিয়ে হাসতে হাসতে আচার কিনতে গিয়েছিল। আচার না পেয়ে সেই টাকা হাতে করেই ফিরে আসছিল ও। কিন্তু এক নিমেষেই সব শেষ হয়ে গেল। তবে এই দুর্ঘটনার জন্য আমি ইজিবাইক চালককে দোষ দিচ্ছি না, এটা আমার কপালের লিখন।”সন্তান হারিয়েও চালকের প্রতি কোনো ক্ষোভ না দেখিয়ে নিজের ভাগ্যকেই দোষারোপ করছেন এই শোকাতুর মা।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জীবননগর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল। জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করেছে।
নিহত শিশুর পরিবারের সাথে কথা বলা হয়েছে।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সুধীমহল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করেন, শিশুরা সাধারণত পারিপার্শ্বিক ঝুঁকি না বুঝেই রাস্তা পারাপার হয়। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এবং কোমলমতি শিশুদের জীবন রক্ষায় অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হওয়া এবং রাস্তা পারাপারের সময় শিশুদের একা না ছাড়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।


















