ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বৃদ্ধার অস্পষ্ট স্মৃতিতে কি বলি হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষার্থী তরিকুল? ইব্রাহিমপুরে ‘শনাক্তকরণ’ নাটক ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন! -(পর্ব-১) হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ৩য় শ্রেণীর ছাত্রীকে ৯ বছরের শিশু ধর্ষন! দর্শনা পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দর্শনায় যত্রতত্র ময়লা- আবর্জনা ফেলার অভিযোগ। চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ কর্তৃক মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্যসহ ২ মাদক কারবারীকে আটক করেছে। ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় মুক্তি পেলেন চুয়াডাঙ্গার ১ বন্দি। আমতলীতে এতিম মাদরাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, পাষণ্ড খালু গ্রেপ্তার দর্শনা থানা পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার। চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ কর্তৃক চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশন এলাকা থেকে পকেটমার গ্রেফতার; মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার। আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ কর্তৃক বিভিন্ন মামলার ৮ আসামী গ্রেফতার। চুয়াডাঙ্গা ডিএনসি র অভিযানে দর্শনা এলাকা থেকে আরো দুজন মাদক কারবারী আটক।মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল জরিমানা।

বৃদ্ধার অস্পষ্ট স্মৃতিতে কি বলি হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষার্থী তরিকুল? ইব্রাহিমপুরে ‘শনাক্তকরণ’ নাটক ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন! -(পর্ব-১)

Sapla News
  • আপডেট সময় : ০৪:১৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

দামুড়হুদা প্রতিনিধি:

দামুড়হুদার ইব্রাহিমপুর গ্রামে ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ কেন্দ্র করে এক চাঞ্চল্যকর ও রহস্যময় তথ্য সামনে এসেছে। যে তরিকুলকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় অভিযুক্ত করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, স্বয়ং অভিযোগকারী বৃদ্ধাই তাকে শনাক্ত করতে পারেননি বলে দাবি করেছে গ্রামবাসী। তবুও কেন একজন নিরপরাধ ছাত্রের জীবন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হলো, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এরই মধ্যে তরিকুলের পরিবারের ওপর বৃদ্ধার স্বজনদের হামলা ও হত্যার হুমকির খবর পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৫ তারিখে বিষ্ণুপুর পুলিশ ক্যাম্প থেকে তদন্ত দল গ্রামে আসে। সেখানে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে বড় পর্দায় তরিকুলসহ চার-পাঁচজন যুবকের ছবি দেখানো হয়। অবাক করার বিষয় হলো, ঘটনার শিকার ওই বৃদ্ধা তরিকুলের ছবি দেখে নিশ্চিতভাবে তাকে দোষী হিসেবে শনাক্ত করতে পারেননি। অথচ অভিযোগকারী পরিবারের চাপে এবং কোনো শক্তিশালী তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তরিকুলকে গ্রেপ্তার করে শ্রীঘরে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ভয়াবহ বিষয় হলো, গত ২৫ তারিখে তরিকুলকে গ্রেপ্তারের আগে বৃদ্ধার জামাতা কলাবাড়ি গ্রামের আবু তালেবের নেতৃত্বে একটি দল তরিকুলের বাড়িতে গিয়ে তান্ডব চালায়। আবু তালেব, তার ছেলে কানুন এবং জামাতা হিরনসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন তরিকুলের বাড়িতে গিয়ে উচ্চৈঃস্বরে গালিগালাজ ও অকথ্য ভাষায় শোরগোল শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা তরিকুলের পরিবারকে গ্রাম ছাড়া করার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের হত্যার হুমকিও প্রদান করে। একজন নিরপরাধ ছাত্রকে যখন আইনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই জেলে পাঠানো হলো, তখন তার অসহায় পরিবারের ওপর এমন হামলা ও হুমকি জনমনে আরও ত্রাসের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধার বয়স ৭১ বছর। এলাকাবাসী জানান, তিনি মানসিকভাবেও অনেকটা ভারসাম্যহীন ও ‘পাগল প্রায়’। চিকিৎসা বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বলে, বার্ধক্যজনিত কারণে মানুষের স্মৃতিশক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পায়। এমতাবস্থায় একজন অপ্রকৃতিস্থ বৃদ্ধার অস্পষ্ট বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো সঠিক তদন্ত ছাড়াই তরিকুলকে গ্রেপ্তার এবং তার পরিবারকে হেনস্থা করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

তরিকুল এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তার ক্যারিয়ার যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ অপবাদ তার জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে। গ্রামবাসী জানান, তরিকুল অত্যন্ত ভদ্র এবং মার্জিত ছেলে। অনুসন্ধানে ওই গ্রামের অন্তত ৫০ জনেরও বেশি মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কেউ তরিকুলের বিরুদ্ধে একটি নেতিবাচক শব্দও উচ্চারণ করেননি। বরং সবাই তাকে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার বলে মনে করছেন।

তরিকুলের পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ তাদের সাথে চরম অপেশাদার ও অমানবিক আচরণ করেছে। এলাকাবাসীর একটাই দাবি—তদন্তের নামে যেন কোনো প্রহসন না হয়। যদি তরিকুল নির্দোষ প্রমাণিত হয়, তবে তার এই কয়েকদিনের জেলজীবন, সামাজিক সম্মানহানি এবং যে মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে সে ও তার পরিবার যাচ্ছে, তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে? পুলিশ নাকি অভিযোগকারী পরিবার? তার পরীক্ষার এই মূল্যবান সময়ে যারা তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসালো এবং বাড়িতে গিয়ে হত্যার হুমকি দিল, তাদের বিচার কী হবে?

এলাকাবাসীসহ সচেতন প্রত্যেকটি ব্যক্তি এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করা প্রশাসনের দায়িত্ব, কিন্তু সন্দেহের বশে একজন উদীয়মান ছাত্রের জীবন নষ্ট করা এবং তার পরিবারকে হুমকির মুখে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অবিলম্বে তরিকুলের নিঃশর্ত মুক্তি এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বৃদ্ধার অস্পষ্ট স্মৃতিতে কি বলি হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষার্থী তরিকুল? ইব্রাহিমপুরে ‘শনাক্তকরণ’ নাটক ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন! -(পর্ব-১)

আপডেট সময় : ০৪:১৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

দামুড়হুদা প্রতিনিধি:

দামুড়হুদার ইব্রাহিমপুর গ্রামে ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ কেন্দ্র করে এক চাঞ্চল্যকর ও রহস্যময় তথ্য সামনে এসেছে। যে তরিকুলকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় অভিযুক্ত করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, স্বয়ং অভিযোগকারী বৃদ্ধাই তাকে শনাক্ত করতে পারেননি বলে দাবি করেছে গ্রামবাসী। তবুও কেন একজন নিরপরাধ ছাত্রের জীবন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হলো, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এরই মধ্যে তরিকুলের পরিবারের ওপর বৃদ্ধার স্বজনদের হামলা ও হত্যার হুমকির খবর পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৫ তারিখে বিষ্ণুপুর পুলিশ ক্যাম্প থেকে তদন্ত দল গ্রামে আসে। সেখানে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে বড় পর্দায় তরিকুলসহ চার-পাঁচজন যুবকের ছবি দেখানো হয়। অবাক করার বিষয় হলো, ঘটনার শিকার ওই বৃদ্ধা তরিকুলের ছবি দেখে নিশ্চিতভাবে তাকে দোষী হিসেবে শনাক্ত করতে পারেননি। অথচ অভিযোগকারী পরিবারের চাপে এবং কোনো শক্তিশালী তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তরিকুলকে গ্রেপ্তার করে শ্রীঘরে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ভয়াবহ বিষয় হলো, গত ২৫ তারিখে তরিকুলকে গ্রেপ্তারের আগে বৃদ্ধার জামাতা কলাবাড়ি গ্রামের আবু তালেবের নেতৃত্বে একটি দল তরিকুলের বাড়িতে গিয়ে তান্ডব চালায়। আবু তালেব, তার ছেলে কানুন এবং জামাতা হিরনসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন তরিকুলের বাড়িতে গিয়ে উচ্চৈঃস্বরে গালিগালাজ ও অকথ্য ভাষায় শোরগোল শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা তরিকুলের পরিবারকে গ্রাম ছাড়া করার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের হত্যার হুমকিও প্রদান করে। একজন নিরপরাধ ছাত্রকে যখন আইনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই জেলে পাঠানো হলো, তখন তার অসহায় পরিবারের ওপর এমন হামলা ও হুমকি জনমনে আরও ত্রাসের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধার বয়স ৭১ বছর। এলাকাবাসী জানান, তিনি মানসিকভাবেও অনেকটা ভারসাম্যহীন ও ‘পাগল প্রায়’। চিকিৎসা বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বলে, বার্ধক্যজনিত কারণে মানুষের স্মৃতিশক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পায়। এমতাবস্থায় একজন অপ্রকৃতিস্থ বৃদ্ধার অস্পষ্ট বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো সঠিক তদন্ত ছাড়াই তরিকুলকে গ্রেপ্তার এবং তার পরিবারকে হেনস্থা করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

তরিকুল এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তার ক্যারিয়ার যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ অপবাদ তার জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে। গ্রামবাসী জানান, তরিকুল অত্যন্ত ভদ্র এবং মার্জিত ছেলে। অনুসন্ধানে ওই গ্রামের অন্তত ৫০ জনেরও বেশি মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কেউ তরিকুলের বিরুদ্ধে একটি নেতিবাচক শব্দও উচ্চারণ করেননি। বরং সবাই তাকে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার বলে মনে করছেন।

তরিকুলের পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ তাদের সাথে চরম অপেশাদার ও অমানবিক আচরণ করেছে। এলাকাবাসীর একটাই দাবি—তদন্তের নামে যেন কোনো প্রহসন না হয়। যদি তরিকুল নির্দোষ প্রমাণিত হয়, তবে তার এই কয়েকদিনের জেলজীবন, সামাজিক সম্মানহানি এবং যে মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে সে ও তার পরিবার যাচ্ছে, তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে? পুলিশ নাকি অভিযোগকারী পরিবার? তার পরীক্ষার এই মূল্যবান সময়ে যারা তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসালো এবং বাড়িতে গিয়ে হত্যার হুমকি দিল, তাদের বিচার কী হবে?

এলাকাবাসীসহ সচেতন প্রত্যেকটি ব্যক্তি এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করা প্রশাসনের দায়িত্ব, কিন্তু সন্দেহের বশে একজন উদীয়মান ছাত্রের জীবন নষ্ট করা এবং তার পরিবারকে হুমকির মুখে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অবিলম্বে তরিকুলের নিঃশর্ত মুক্তি এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।