আলমডাঙ্গা মটর সাইকেল হাট বেশি দামে ডেকে বিপাকে ইজারাদার।। বিক্রেতা- ক্রেতাদের পকেট কাটার অভিযোগ।
- আপডেট সময় : ০৪:৩১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা মটর সাইকেল হাঁটে টোল আদায় নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি চরম পর্যায়ে বলে অভিযোগ উঠেছে।জোর জুলুম করে টোল আদায় করা যেনো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযোগ সূত্র ও খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়,সরকারি নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কর্তৃক টোল আদায়ের লিখিত লিষ্টে নির্ধারিত টাকার চেয়েও গত বছরের ইজারাদার ১’শ থেকে ২’শ টাকা করে প্রতি মটর সাইকেলে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। চলতি ইজারা বছরের টোল আদায়ের কাজ শুরু হওয়ার আগে থেকে টোল আদায় শুরু করেছে।
সূত্র মতে, এরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, মটর সাইকেল ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে প্রতি মটর সাইকেলের ক্ষেত্রে টোল আদায় করবে ৫’শ থেকে ৭ টাকা টাকা। আর যারা সাধারণ ক্রেতা/বিক্রেতা মটর সাইকেল বিক্রয় বা ক্রয় করতে আসবে তাদের নিকট থেকে টোল আদায় করবে ১০০০ টাকা করে।
এটা সম্পূর্ণ ভাবেই অন্যায়,অনিয়ম, এবং জেলা প্রশাসকের লিখিত টোল আদায় লিষ্টের তোয়াক্কা না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন কর্তৃক স্বাক্ষরিত টোল আদায়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ভাবে লিখিত দেওয়া আছে যে, মটর সাইকেল বিক্রয় কারী টোল দিবে ৫০০ টাকা, এবং ক্রেতাও টোল দিবে ৫০০ টাকা । এর বাইরে হাঁটের ইজারাদার কোন ভাবেই নিজের মন মত টোল বৃদ্ধি করে আদায় করতে পারবে না।
জেলা প্রশাসন কর্তৃক টোল আদায়ের লিখিত সুনির্দিষ্ট লিষ্টের বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা অন্যায়,অনিয়ম এবং দুর্নীতি। সাধারণ মটর সাইকেল ক্রয় বিক্রয় কারীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করবে, আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মিছ পান্না আক্তার কোন কিছু বলবে না, এটা তো অন্যায়কে,অনিয়মকে এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ারই নামান্তর।
যেহেতু পৌরসভার মেয়র বর্তমানে দায়িত্বে নেই, সেই নিরিখে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন ইউএনও মিছ পান্না আক্তার নিজেই । মটর সাইকেল হাঁটটি যেহেতু আলমডাঙ্গা পৌর সভার অধিনে, সেহেতু এখানে যদি সাধারণ মানুষ বা মটর সাইকেল ক্রয় বিক্রয় কারীরা টোল দেওয়ার ক্ষেত্রে জুলুমের শিকার হয়,তাহলে এই জুলুম থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব কি ইউএনও নেই ?
অবশ্যই একজন ইউএনও হিসেবে এবং পৌর প্রশাসক হিসেবে টোল আদায়ের ক্ষেত্রে হাঁট ইজারাদারকে ডিসি কর্তৃক বেঁধে দেওয়া নিয়ম ,নির্দেশনা এবং লিষ্ট অনুসরণ করাতে বাধ্য করতে হবে। পাশাপাশি মটর সাইকেল হাঁটে সাধারণ মানুষ মটর সাইকেল ক্রয় এবং বিক্রয় করতে আসলে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। এখানে অনেক রকম ভয় ভীতি দেখিয়ে মটর সাইকেল ক্রয় বিক্রয় কারীদের নিকট থেকে আরও কিছু ক্ষেত্রে টাকা আদায় করা হয়, যেটা টোল আদায়ের লিষ্টের বাইরে।
মটর সাইকেল হাঁটে যত রকম অনিয়ম, দুর্নীতি করা হয়, সেগুলোর সাথে জড়িত হলো আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত খাই খাই ভয়ংকর চাঁন্দাবাজ নেতা জিল্লুর রহমান ওল্টু, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার,আর একজন হলেন কালোপাঠা আলমডাঙ্গা বনিক সমিতির ক্যাশিয়ার আলাউদ্দিন। আনোয়ার এবং আলাউদ্দিন মিলে গত ৫ই আগস্ট ২০২৪ইং এর পর থেকে এপর্যন্ত কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন ভাবে কামিয়ে নিয়েছে। আসাদুজ্জামান মিন্টু হলো আলমডাঙ্গা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে আছে। এই মিন্টু দুলা ভাই হলো আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত জিল্লুর রহমান ওল্টুর খুবই নিকটজন। এই মিন্টু মটর সাইকেল হাঁটে ক্যাশে বসে সকল কিছু দেখভাল করে থাকেন। তিনি আলমডাঙ্গা পশু হাঁটের অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথেও জড়িত বলে তথ্য আছে।
তলে তলে খাদ্য গো-ডাউনের অনিয়ম দুর্নীতির টাকার হিস্যাও পেয়ে থাকেন মিন্টু। আর এবছরে মটর সাইকেল হাঁট ডেকে পেয়েছে জেড এম তৌফিক খান, জেড এম তৌফিক খান হলো আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে অধিষ্ঠিত। তৌফিক খান হলো মটর সাইকেল হাঁটের ইজারাদার এবং ৪০% শেয়ারের মালিক।
স্হানীয় সূত্র জানায়, বেশি টাকায় মটর সাইকেল হাট ইজারা নেয়া এবং লস পুষিয়ে নিতে এ সিন্ডিকেট চক্র এবার মটর সাইকেল ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের পকেট কাটার পরিকল্পনা নিয়ে তৎপর রয়েছে।এটা একটা জুলুম বলে মনে করা হচ্ছে।


















