এবার বাড়ল অপরিশোধিত তেলের দাম ।
- আপডেট সময় : ০৮:২৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

শাপলা নিউজ
সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আর ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা কাটছেই না। গত শুক্রবার দিনভর দর ওঠানামার পর সপ্তাহ শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সার্বিকভাবে বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে; একই সময়ে মার্কিন তেলের দাম বেড়েছে ১৩ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুক্রবার লেনদেন শেষে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম প্রতি ব্যারেলে ২৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৩৩ ডলারে থিতু হয়েছে। তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে (ডব্লিউটিআই)। এর দাম ব্যারেলে ১ দশমিক ৪৫ ডলার বা ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৯৪ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
দিনের শুরুতে তেলের দাম ২ শতাংশের মতো বাড়লেও পরবর্তী সময়ে তা কিছুটা নিম্নমুখী হয়। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। রয়টার্স ও সিএনএনের তথ্যমতে, আলোচনার উদ্দেশ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি দল বর্তমানে ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রস্তাব আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তবে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও হরমুজ প্রণালির সংকটে উদ্বেগ কাটছে না। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই পথটি বর্তমানে প্রায় স্থবির হয়ে আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র পাঁচটি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করতে পেরেছে। সম্প্রতি ইরানের কমান্ডোরা দুটি জাহাজ জব্দ করার পর এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি এপ্রিলের মধ্যে শান্তি আলোচনায় সুনির্দিষ্ট কোনো অগ্রগতি না হলে তেলের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। এমনকি দাম এ বছরের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। বহুজাতিক কোম্পানি প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল (পিঅ্যান্ডজি) জানিয়েছে, তেলের চড়া দামের কারণে আগামী অর্থবছরে তাদের মুনাফা প্রায় ১০০ কোটি ডলার কমে যেতে পারে।

























