ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সাঘাটায় ব্লেন্ডার মেশিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চা দোকানির মৃত্যু, অসহায় অসুস্থ বাবা-মা স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবার ওপর নির্যাতনের অভিযোগ, সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগে ইউএনও’র কাছে আবেদন গাইবান্ধায় গৃহবধূ সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ। এবার বাড়ল অপরিশোধিত তেলের দাম । সরোজগঞ্জে দুই মাদক কারবারীকে পুলিশ কর্তৃক আটকের পর ভ্রাম্যমান আদালত জেল -জরিমানা। চুয়াডাঙ্গায় মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ: মুক্তিপণ চেয়ে অজ্ঞাত ফোন, উৎকণ্ঠায় পরিবার। নরসিংদীতে বাস-কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসের চাপায় পথচারী নিহত বীরগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন সরোজগঞ্জ ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখা থেকে একাউন্ট হ্যাক হওয়া এক লক্ষ টাকা উদ্ধারপূর্বক মালিকের জিম্মায় প্রদান। চুয়াডাঙ্গায় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার

স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবার ওপর নির্যাতনের অভিযোগ, সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগে ইউএনও’র কাছে আবেদন

Sapla News
  • আপডেট সময় : ১২:০৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

 

 

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর:

যশোরের কেশবপুর পৌর এলাকার এক বিধবা নারী স্বামীর মৃত্যুর পর দেবরদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালিগালাজ ও পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগকারী কেশবপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোনালী সেন (৫৬)। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ১৬ বছর আগে তার স্বামী অশোক কুমার সেন ক্যানসারে মারা যাওয়ার পর থেকেই দেবর কানন সেন ও নিতাই সেন বিভিন্নভাবে তাকে ও তার পরিবারকে হয়রানি করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বামীর রেখে যাওয়া পৈতৃক বসতভিটার অংশ থেকে তাকে উচ্ছেদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশলে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। কখনও ভয়ভীতি, কখনও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা, আবার কখনও প্রকাশ্যে গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলার চেষ্টা চলছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তরা বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত কেউ এলেও তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগে বাধা দেয়। প্রতিবাদ জানালে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। গত ২২ আগস্ট বেলা আনুমানিক ১টার দিকে প্রকাশ্যে দুর্ব্যবহার ও মারধরের চেষ্টার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে আবেদনপত্রে।
অভিযোগকারী আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। উল্টো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্যাতন ও চাপ বেড়েছে। এতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিরুপায় হয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এদিকে নারীর সম্পত্তির অধিকার ও পারিবারিক সহিংসতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে এ অভিযোগের মধ্য দিয়ে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিধবা নারীদের সম্পত্তি বঞ্চনা ও পারিবারিক নিপীড়নের ঘটনা গ্রামাঞ্চলে এখনও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার জরিপেও নারীর প্রতি পারিবারিক সহিংসতা ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধকে উদ্বেগজনক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নারীর উত্তরাধিকার ও সম্পত্তির অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযোগটি তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগকারী সোনালী সেন বলেন, “স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে শান্তিতে বসবাস করতে পারছি না। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ঘটনাটি এখন স্থানীয় প্রশাসনের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবার ওপর নির্যাতনের অভিযোগ, সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগে ইউএনও’র কাছে আবেদন

আপডেট সময় : ১২:০৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

 

 

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর:

যশোরের কেশবপুর পৌর এলাকার এক বিধবা নারী স্বামীর মৃত্যুর পর দেবরদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালিগালাজ ও পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগকারী কেশবপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোনালী সেন (৫৬)। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ১৬ বছর আগে তার স্বামী অশোক কুমার সেন ক্যানসারে মারা যাওয়ার পর থেকেই দেবর কানন সেন ও নিতাই সেন বিভিন্নভাবে তাকে ও তার পরিবারকে হয়রানি করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বামীর রেখে যাওয়া পৈতৃক বসতভিটার অংশ থেকে তাকে উচ্ছেদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশলে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। কখনও ভয়ভীতি, কখনও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা, আবার কখনও প্রকাশ্যে গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলার চেষ্টা চলছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তরা বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত কেউ এলেও তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগে বাধা দেয়। প্রতিবাদ জানালে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। গত ২২ আগস্ট বেলা আনুমানিক ১টার দিকে প্রকাশ্যে দুর্ব্যবহার ও মারধরের চেষ্টার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে আবেদনপত্রে।
অভিযোগকারী আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। উল্টো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্যাতন ও চাপ বেড়েছে। এতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিরুপায় হয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এদিকে নারীর সম্পত্তির অধিকার ও পারিবারিক সহিংসতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে এ অভিযোগের মধ্য দিয়ে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিধবা নারীদের সম্পত্তি বঞ্চনা ও পারিবারিক নিপীড়নের ঘটনা গ্রামাঞ্চলে এখনও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার জরিপেও নারীর প্রতি পারিবারিক সহিংসতা ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধকে উদ্বেগজনক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নারীর উত্তরাধিকার ও সম্পত্তির অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযোগটি তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগকারী সোনালী সেন বলেন, “স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে শান্তিতে বসবাস করতে পারছি না। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ঘটনাটি এখন স্থানীয় প্রশাসনের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।