চুয়াডাঙ্গায় মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ: মুক্তিপণ চেয়ে অজ্ঞাত ফোন, উৎকণ্ঠায় পরিবার।
- আপডেট সময় : ০৫:২৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গার হিজলগাড়ী বহুমুখী কওমি মাদরাসা থেকে সিয়াম আহম্মেদ (১১) নামে এক ছাত্র নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পরই একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ ছাত্রের বাবা চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
নিখোঁজ সিয়াম আহম্মেদ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়নের ডিহি গ্রামের আবজাল হোসেনের ছেলে। সে স্থানীয় হিজলগাড়ী বহুমুখী কওমি মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সিয়ামের বাবা আবজাল হোসেন মাদরাসায় ছেলের জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে যান। সে সময় সরাসরি ছেলের সঙ্গে দেখা না হলেও মাদরাসার নির্দিষ্ট স্থানে খাবার রেখে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। তবে এর কিছুক্ষণ পরই অর্থাৎ বেলা ৩টার দিকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাকে জানায় যে, সিয়ামকে মাদরাসা চত্বরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
সিয়ামের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা যখন চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন, তখনই তাদের কাছে একটি রহস্যময় ফোন আসে। ভুক্তভোগী বাবা আবজাল হোসেনের অভিযোগ অনুযায়ী, ০১৯৪৩-০২৮৪৮১ নম্বর থেকে ফোন করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি সিয়ামের সন্ধান দেওয়ার বিনিময়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।
পরবর্তীতে ফোন দাতার সাথে পরিবারের দরকষাকষি হয় এবং একপর্যায়ে ১০ হাজার টাকায় বিষয়টি রফা হয়। তবে সিয়ামের পরিবার শর্ত দেয় যে, টাকা পাঠানোর আগে সিয়ামকে ভিডিও কলে দেখাতে হবে অথবা তার সাথে কথা বলতে দিতে হবে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদকর্মীদের হাতে পৌঁছেছে, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ছেলের কোনো সঠিক সন্ধান না পেয়ে এবং অপহরণের আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করছে সিয়ামের পরিবার। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার সিয়ামের বাবা বাদী হয়ে দর্শনা থানায় একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) দায়ের করেছেন।
তবে মাদরাসা থেকে একটি শিশু কীভাবে দিনের আলোয় নিখোঁজ হলো এবং সিসিটিভি বা নিরাপত্তার কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান:
“ছাত্র নিখোঁজের ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। যে মোবাইল নম্বর থেকে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে, আমরা সেই সূত্র ধরে নিখোঁজ ছাত্রকে উদ্ধার এবং মুক্তিপণ চক্রটিকে শনাক্ত করার জন্য কাজ করছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই ছাত্রটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, মাদরাসাগুলোতে ছাত্রদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন এবং এ ধরনের মুক্তিপণ চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। নিখোঁজ সিয়ামকে ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছে তার পরিবার।



















