রোজার মাসে অনাহারে বৃদ্ধা জরিনা বেগম, ইফতার–সেহরিতে সঙ্গী শুধু পানি ও দীর্ঘশ্বাস
- আপডেট সময় : ১২:৪৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে

মো: তরিকুল ইসলাম মহম্মদপুর (মাগুরা)প্রতিনিধি ,
মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খালিয়া মন্ডলপাড়ায় একা পড়ে থাকা জরিনা বেগমের (৭০) জীবনে যেন দুঃখই একমাত্র সঙ্গী। স্বামী হারিয়েছেন বহু বছর আগে। নেই কোনো জমিজমা, নেই আয়ের পথ। সরকারি সহায়তার তালিকায় তার নাম কখনোই ওঠেনি। বয়সের ভারে এখন আর ভিক্ষার জন্য বাড়ির বাইরে যাওয়ার শক্তিটুকুও নেই।
পবিত্র রমজান মাস—যে মাসে ঘরে ঘরে ইফতারের আয়োজন, সেই মাসেই অনাহারে দিন কাটছে এই বৃদ্ধার। ইফতার কিংবা সেহরিতে অনেক সময় তার ভাগ্যে জোটে না একমুঠো খাবারও। বাধ্য হয়ে শুধু পানি খেয়েই রোজা ভাঙেন তিনি।
জরিনা বেগমের রান্নাঘরে গিয়ে প্রতিবেশী সুমি বলেন,
“চুলার দিকে তাকালেই বোঝা যায় কত দিন ধরে এখানে আগুন জ্বলেনি। হাঁড়ি-পাতিল পড়ে আছে, কিন্তু রান্না হয় না। ঘরে চাল-ডাল কিছুই নেই।”
প্রতিবেশীরা জানান, প্রতিদিন ইফতারের সময় জরিনা বেগম ঘরের দরজার সামনে বসে থাকেন। নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকেন রাস্তার দিকে—কখন যেন কেউ একটু খাবার নিয়ে আসে। সেই খাবার দিয়েই তার ইফতার, সেই খাবার দিয়েই সেহরির ভরসা।
স্থানীয় বাসিন্দা সাগর মন্ডল বলেন,
“এই বয়সে তার এমন কষ্ট কেউ সহ্য করতে পারে না। তিনি একেবারে অসহায় অবস্থায় আছেন।”
আরেক প্রতিবেশী মমিনুর মোল্লা বলেন,
“রমজান মাসে একজন বৃদ্ধা মানুষ না খেয়ে থাকছেন—এটা আমাদের সবার জন্য লজ্জার। এখনই যদি কেউ এগিয়ে না আসে, তাহলে তার বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে যাবে।”
এলাকাবাসীর আকুল আবেদন, জরিনা বেগমকে দ্রুত বয়স্ক ভাতা ও জরুরি খাদ্য সহায়তার আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের কাছে তারা সাহায্যের হাত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন



















