ঢাকা ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দর্শনা হল্ট স্টেশন এলাকায় নেশা ও অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ। রোজার মাসে অনাহারে বৃদ্ধা জরিনা বেগম, ইফতার–সেহরিতে সঙ্গী শুধু পানি ও দীর্ঘশ্বাস খাদ্য সামগ্রী পেল কুলিয়ারচর প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষার্থীরা। রামেবি ভিসিকে অপসারণে তিন দিনের আল্টিমেটাম কাজ দিতে ৯ শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগ সংবাদ সম্মেলন করে অস্বীকার করলেন ভিসি। ‎মোংলায় ভ্রাম্যমাণ  আদালত কর্তৃক ৭ দোকানদারকে জরিমানা। আউলিয়াপুরে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও রাস্তা নষ্টের ভিডিও করতে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা। চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উপলক্ষে গণসচেতনতামূলক র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। চুয়াডাঙ্গায় ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ও প্যাথেড্রিন উদ্ধার জীবননগরে দুই পিস ই’য়াবা সহ যুবক আটক তিন মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানা। চুয়াডাঙ্গা শহরে ভোক্তা অফিসের অভিযানে একটি প্রতিষ্ঠানকে ১০’হাজার টাকা জরিমানা।

চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উপলক্ষে গণসচেতনতামূলক র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

Sapla News
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৮:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উপলক্ষে গণসচেতনতামূলক র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
“বন্যপ্রাণী ও সুগন্ধি উদ্ভিদ: স্বাস্থ্য, ঐতিহ্য এবং জীবিকা সুরক্ষা”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে এবং গুরুত্বের সাথে পালিত হয়েছে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস-২০২৬।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

আজ মঙ্গলবার ০৩ মার্চ ২০২৬ বেলা ১১ টা ৫৫ মিনিটের দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রধান প্রধান সড়কে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় একটি জনাকীর্ণ স্থানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

এই কর্মসূচির মূল আয়োজনে ছিল পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ এন্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ’ (BWNI)।

র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারী যুবকদের হাতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্বলিত বিভিন্ন পোস্টার ও ফেস্টুন দেখা যায়।

বিশেষভাবে নজর কেড়েছে বিভিন্ন প্রাণীর পরিচিতি ও উপযোগিতা নিয়ে তৈরি করা ব্যানারগুলো:

মেছোবিড়াল: “আমি বাঘ নই, বিড়াল; ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করি।” মেছোবিড়াল যে একটি নিরীহ ও বিপন্ন প্রাণী এবং একে হত্যা করা দণ্ডনীয় অপরাধ, সেই বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

পাখি: পাখিদের “কৃষি অর্থনীতির বন্ধু” হিসেবে অভিহিত করে প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে তাদের ভূমিকা এবং পরাগায়নে তাদের অবদানের কথা তুলে ধরা হয়।

খরগোশ ও বনবিড়াল: খাদ্যশৃঙ্খলে এসব প্রাণীর গুরুত্ব এবং এদের রক্ষায় আইনগত বাধ্যবাধকতার বিষয়গুলো ব্যানারে প্রদর্শিত হয়।

র‍্যালি শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মোঃ আমিনুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,
“প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বন্যপ্রাণীর ভূমিকা অপরিসীম। নির্বিচারে বন্যপ্রাণী শিকার ও বনভূমি উজাড় করার ফলে আজ অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই মেছোবিড়াল, পাখি বা খরগোশের মতো প্রাণীদের রক্ষা করতে হবে। সরকার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কঠোর আইন করেছে এবং এর বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।”

বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ এন্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ-এর প্রতিনিধিরা জানান, চুয়াডাঙ্গা ও তৎসংলগ্ন এলাকার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। বিশেষ করে পরিযায়ী পাখি রক্ষা এবং লোকালয়ে চলে আসা বন্যপ্রাণীদের উদ্ধার করে পুনরায় প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার বিষয়ে তারা সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছেন।

তারা যেকোনো বন্যপ্রাণী সংকটে বন বিভাগের সহায়তা নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের মাঝে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এ ধরনের প্রচারণার ফলে মেছোবিড়াল বা বনবিড়ালের মতো প্রাণীদের নিয়ে মানুষের মনে যে অহেতুক ভীতি ছিল, তা দূর হবে এবং অকারণে প্রাণী হত্যা কমবে।

উক্ত অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, পরিবেশকর্মী এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উপলক্ষে গণসচেতনতামূলক র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

আপডেট সময় : ০৫:৫৮:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উপলক্ষে গণসচেতনতামূলক র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
“বন্যপ্রাণী ও সুগন্ধি উদ্ভিদ: স্বাস্থ্য, ঐতিহ্য এবং জীবিকা সুরক্ষা”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে এবং গুরুত্বের সাথে পালিত হয়েছে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস-২০২৬।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

আজ মঙ্গলবার ০৩ মার্চ ২০২৬ বেলা ১১ টা ৫৫ মিনিটের দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রধান প্রধান সড়কে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় একটি জনাকীর্ণ স্থানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

এই কর্মসূচির মূল আয়োজনে ছিল পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ এন্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ’ (BWNI)।

র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারী যুবকদের হাতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্বলিত বিভিন্ন পোস্টার ও ফেস্টুন দেখা যায়।

বিশেষভাবে নজর কেড়েছে বিভিন্ন প্রাণীর পরিচিতি ও উপযোগিতা নিয়ে তৈরি করা ব্যানারগুলো:

মেছোবিড়াল: “আমি বাঘ নই, বিড়াল; ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করি।” মেছোবিড়াল যে একটি নিরীহ ও বিপন্ন প্রাণী এবং একে হত্যা করা দণ্ডনীয় অপরাধ, সেই বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

পাখি: পাখিদের “কৃষি অর্থনীতির বন্ধু” হিসেবে অভিহিত করে প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে তাদের ভূমিকা এবং পরাগায়নে তাদের অবদানের কথা তুলে ধরা হয়।

খরগোশ ও বনবিড়াল: খাদ্যশৃঙ্খলে এসব প্রাণীর গুরুত্ব এবং এদের রক্ষায় আইনগত বাধ্যবাধকতার বিষয়গুলো ব্যানারে প্রদর্শিত হয়।

র‍্যালি শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মোঃ আমিনুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,
“প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বন্যপ্রাণীর ভূমিকা অপরিসীম। নির্বিচারে বন্যপ্রাণী শিকার ও বনভূমি উজাড় করার ফলে আজ অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই মেছোবিড়াল, পাখি বা খরগোশের মতো প্রাণীদের রক্ষা করতে হবে। সরকার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কঠোর আইন করেছে এবং এর বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।”

বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ এন্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ-এর প্রতিনিধিরা জানান, চুয়াডাঙ্গা ও তৎসংলগ্ন এলাকার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। বিশেষ করে পরিযায়ী পাখি রক্ষা এবং লোকালয়ে চলে আসা বন্যপ্রাণীদের উদ্ধার করে পুনরায় প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার বিষয়ে তারা সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছেন।

তারা যেকোনো বন্যপ্রাণী সংকটে বন বিভাগের সহায়তা নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের মাঝে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এ ধরনের প্রচারণার ফলে মেছোবিড়াল বা বনবিড়ালের মতো প্রাণীদের নিয়ে মানুষের মনে যে অহেতুক ভীতি ছিল, তা দূর হবে এবং অকারণে প্রাণী হত্যা কমবে।

উক্ত অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, পরিবেশকর্মী এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।