বোমার সাথে বসবাস!।
- আপডেট সময় : ০২:০৫:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে

মোঃখলিলুর রহমান খলিল ঃব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার ৮০% লোক গ্যাস সিলিন্ডারে রান্না করেব,আর পৌর শহর ব্যতিত শতকরা ১০ % লোক গ্যাসে রান্না করেন।গ্যাস সিলিন্ডার সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় কাঠের লাকড়ির তুলনায় সাশ্রই হওয়ায়,গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে,সেই সুযোগে গ্যাস ব্যবসায়ীরা দাম বেশি নিচ্ছে অথচ সিলিন্ডারে গ্যাস ব্যবহারের কোন নির্দেশনা দিচ্ছেন না।সাধারণ ভোক্তারাও গ্যাস ব্যবহারের সাধারণ নিয়ম কানুন সম্পর্কেও অবগত নই। নবীনগর পৌর শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কোন গৃহিণী গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের নিয়ম কানুন জানেন না,তাদের বাসায় নেই কোন অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা।এমনকি গ্যাস ব্যবসায়ীদের দোকান ও মানছে না গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের বা বিক্রয়ের নির্দেশনা।
এজন্য বাড়ছে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মতো ভয়াবহ ঘটনা।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। এই দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার এক বসতবাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ এক পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য মতে ২০২৫ সালে সারা দেশে সিলিন্ডার ও এর সঙ্গে যুক্ত উপকরণের লিকেজ থেকে ১ হাজার ৪১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে । এছাড়া পাইপলাইনে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস লিকেজ থেকে ২০২৫ সালে ৫৬২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে শহর ছাড়িয়ে মফস্বলেও বেড়েছে গ্যাস সিলিণ্ডার দুর্ঘটনা।
এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির জন্য বিস্ফোরক লাইসেন্স আবশ্যক। কিন্তু অধিকাংশ বিক্রেতার কোনো লাইসেন্স পাওয়া যায় না। বিস্ফোরক পরিদপ্তরেরও এই বিষয়ে তেমন কোনো ভ্রক্ষেপ নেই। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর প্রশাসনের লোকজন পরিদর্শন করেই যেন দায় সারেন। দুর্ঘটনায় প্রাণহানি এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বাড়লেও সিলিন্ডার আমদানি, বাজারজাত ও নিরাপত্তা-মান পরীক্ষার বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট তদারক সংস্থাগুলো নির্বিকার। গ্রাহকদের সচেতনতার ঘাটতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নির্বিকার ভূমিকার কারণে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গ্যাস সিলিন্ডারের ভয়াবহতার মূল কারণসমূহ:
ত্রুটিপূর্ণ সরঞ্জাম: নিম্নমানের হোস পাইপরেগুলেটরও সিলিন্ডার ভালভের ব্যবহার
লিকেজ: সিলিন্ডার বা পাইপলাইনে দীর্ঘদিনের সূক্ষ্ম লিকেজ থেকে বদ্ধ ঘরে গ্যাস জমে থাকা
সচেতনতার অভাব: নিয়মিত সিলিন্ডার রি-টেস্ট (পরীক্ষা) না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার
ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপন: চুলার খুব কাছে সিলিন্ডার রাখা এবং বদ্ধ রান্নাঘরে ব্যবহার
দুর্ঘটনার ভয়াবহ রূপ:
বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড: লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাস আগুন বা ইলেকট্রিক স্পার্কের সংস্পর্শে এসে মুহূর্তেই পুরো বাড়ি বা গুদামে আগুন ছড়িয়ে পড়ে [
প্রাণহানি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি: বিস্ফোরণে মৃত্যু ছাড়াও লিক হওয়া গ্যাস নিঃশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে অজ্ঞান হওয়া বা শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে।
গ্যাসের এই সিলিন্ডার যেন নবীনগর সহ সমগ্র দেশে ভোক্তাদের ঘরে এক একটি বোমা! এই বোমার সাথেই যেন মানুষের বসবাস।এই গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে সর্তক থাকলে কোন দূর্ঘটনা ঘটবে না, বিশেষ করে চুলা অন করার আগে পাঁচ মিনিট দরজা জানালা খোলা রাখা, বালু ভরাট করা বালতি রান্না ঘরে রাখা, আগুন নেভানোর প্রাথমিক যন্ত্র ফায়ার এক্সটিংগুইশার (Fire Extinguisher) রাখা।














