শ্যালিকা ধর্ষণের মামলার ২৫ দিন পার হলেও গ্রেফতার হয়নি লম্পট ডাক্তার রাফসান, সাংবাদিকদের ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ১২:৫৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

সুমন চক্রবর্তী, বিশেষ প্রতিনিধি:
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা: রাফসান জানি কতৃক ধর্ষণের শিকার নিজের শ্যালিকা সামিয়া আফরোজের মণিরামপুর থানাতে মামলা হওয়ার ২৫ দিন পার হলেও লম্পট ডাক্তার রাফসানকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এ ধরনের ঘটনায় আইনের ফাঁক গলে পালিয়ে থাকায় তার সাহস বেড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা ও গণমাধ্যমকর্মীরা। পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি এখনো জানা যায়নি।
উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী সামিয়া আফরোজ নিজে বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় মামলাটি করেন। অভিযুক্ত রাফসান জানি ৪৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে গত মাসে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। তিনি যশোর সদর উপজেলার ঘুরুলিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
মামলার এজাহারের সূত্রমতে, ভুক্তভোগী তরুণী লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার বাসিন্দা এবং রংপুরের একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। ২০২০ সালের শেষের দিকে তার মেজো বোন সাজেদা আফরোজ অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে দেখভালের জন্য ভগ্নিপতি রাফসান জানি যশোর শহরের উপশহর এলাকার ভাড়া বাসায় নিয়ে আসেন।
বাদীর অভিযোগ, বাসায় পড়ানোর ছলে রাফসান তাকে নিয়মিত কুপ্রস্তাব দিতেন এবং খাতায় আপত্তিকর কথাবার্তা লিখতেন। বিষয়টি বোনকে জানালেও সংসার টিকিয়ে রাখতে তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। পরবর্তীতে বোন চাকরিতে যোগ দিলে বাসায় একা পেয়ে রাফসান তাকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে তরুণী তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন।
ভুক্তভোগী জানান, নিজের সুবিধা অনুযায়ী রাফসান তাকে যশোরের একটি হোস্টেলে পাঠিয়ে দেন এবং বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে নিয়ে যেতেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মণিরামপুর শহরের মোহনপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তারা ‘স্বামী-স্ত্রী’ পরিচয়ে তিন মাস অবস্থান করেন। সে সময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বারবার ধর্ষণের পাশাপাশি রাফসান তার মোবাইলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন।
গত মাসে সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই রাফসান তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। বর্তমানে ওই ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে তরুণীকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বাধ্য হয়ে প্রথমে হাতিবান্ধায় জিডি, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ ও পরে মণিরামপুর থানায় মামলা করেন ধর্ষণের শিকার সামিয়া।
ডাক্তার রাফসানের সর্বশেষ খবর জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ফাইয়াজ আহমদ ফয়সাল সাংবাদিক সুমন চক্রবর্তীকে বলেন, ঘটনার পর থেকে বিনা ছুটিতে ডাক্তার রাফসান অনুপস্থিত রয়েছেন। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অবগত করা হয়েছে।
এব্যাপারে মণিরামপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) বলেন, আমাদের তদন্ত সম্পূর্ণ চলমান রয়েছে, ডাক্তার রাফসান জানিকে আটকের চেষ্টা করছে মণিরামপুর থানা পুলিশে। কিন্তু তাকে পাওয়া যাচ্ছে না, সে পলাতক আছে।
মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, ধর্ষণের শিকার অসহায় নারী সামিয়া আফরোজকে সহযোগিতা করার জন্য লম্পট ডাক্তার রাফসান নিজেকে বাঁচানোর জন্য আমাকে এবং মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক সুমন চক্রবর্তীর নামেও মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তবে আমরা একতাবদ্ধ কলম সৈনিকেরা সবসময়ই নির্যাতিতার পক্ষে থেকেছি এবং ডাক্তার রাফসানকে অনতিবিলম্বে আটকের জোর দাবী জানাচ্ছি।
এদিকে যশোর-মণিরামপুর সহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে একাধিক সাংবাদিক ও সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অতি দ্রুত লম্পট ডাক্তার রাফসানকে গ্রেফতারের জোর দাবী জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে সাংবাদিকদের নিয়ে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনে চাঁদাবাজ দাবী করার জন্য ডিবিসি নিউজ ও ডেইলি অবজারভারের যশোর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক সাকিকুল কবীর রিটন ডাক্তার রাফসান জানির বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকার মানহানীর মামলা করেছেন। চলমান দুইটা মামলার আসামী এখনো পর্যন্ত আটক না হওয়াতে ফুঁসে উঠেছে সাংবাদিক সমাজ।


















