ঢাকা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
প্রেসক্লাব গংগাচড়ার দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদ থেকে সাংবাদিক আব্দুস সালামের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ। মির্জাখীলসহ চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদ উদযাপন। চুয়াডাঙ্গায় সাংবাদিকদের সাথে নবনিযুক্ত পুলিশ সুপারের মতবিনিময়: অপরাধমুক্ত জনপদ গড়ার প্রত্যয় চুয়াডাঙ্গায় ডিবি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকসহ গ্রেপ্তার ১, পলাতক ২ ডিঙ্গেদহ সোহরা ওয়ার্দ্দী স্মরণী বিদ্যাপিঠে মিলন সংঘ’র ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত।। শ্রীবরদীতে গণমাধ্যম কর্মীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় । চবি’র সাবেক ভিসি অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফের ইন্তেকাল চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতের ৩৮ জন নারী-পুরুষ রুকন শপথ নিলেন। লাউয়ের পাতা সিন্ধ করে,ইফতারি করছে পরিবারটি! শুধু পানি খেয়ে রোজা রাখছে তারা! । কক্সবাজার চকরিয়ায় পুলিশের অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৪ জন আটক।

বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির তীব্র সংকট, ধান চাষ না করার পরামর্শ

  • আপডেট সময় : ১২:৫৩:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৫ ১৮৩ বার পড়া হয়েছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্র‌তি‌নি‌ধি:  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর, নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলায় দিন দিন পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় । ভূগর্ভস্থ পানির তীব্র সংকটের আশঙ্কায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) সেখানে কৃষকদের ধান চাষ না করার পরামর্শ দিয়েছে। এতে কৃষকদের মাঝে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভূগর্ভস্থ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, নাচোল, গোমস্তাপুুর উপজেলা খাদ্য উৎপাদন এলাকা বরেন্দ্র অঞ্চলে এই সংকট প্রকট ও দীর্ঘ হচ্ছে। সূত্রমতে, এ কারণে ওই সব এলাকায় আগামীতে ইরি ধান চাষে নিরুৎসাহ দিচ্ছে বিএমডিএ। এতে আগামীতে খাদ্য উৎপাদনে চরম অনিশ্চয়তার শঙ্কা করা হচ্ছে। এতে কৃষকদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা গম, সরিষা চাষাবাদ করছেন। কৃষকরা জানান, বিএমডিএর এ সিদ্ধান্তে দেখা দিতে পারে চালের চরম সংকট। বিএমডিএর দাবি, আগামী দিনে পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতেই নেওয়া হয়েছে এমন উদ্যোগ।

বিএমডিএ সিদ্ধান্ত নিয়ে ইরি ধান চাষ না করতে ডিপ অপারেটর ও কৃষকদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করছে। এমনকি নির্দেশ অমান্য করে ধান চাষ করলে বেঁধে দেয়া সময়ের বেশি বিদ্যুৎ না দেয়ারও ঘোষণা দেয়া হয়েছে।।কৃষকরা জানান, আমাদের ধান ছাড়া লাভজনক তেমন অন্য কোনো ফসল উৎপাদন হয় না বরেন্দ্র অঞ্চলে। তাই বছরে তিনবার ধান চাষ করি। কিন্তু পানির সংকট বলে বিএমডিএ এবার ইরি ধান চাষ করতে নিষেধ করেছে।

প্রতিবছর ইরি ধান আবাদ করতে ১৭ থেকে ১৯টি সেচ লাগে। আর গম চাষ করতে মাত্র ২ টি সেচ লাগে। এ ছাড়া প্রতিবছর বৃষ্টির মাধ্যমে ভূগর্ভে পানি জমা হয় ৯০০ মিলিমিটারের মতো, অন্য দিকে এ জেলায় ফসল চাষে পানি লাগে ১৩০০ মিলিমিটার। ফলে প্রতিবছর ৪০০ মিলিমিটার পানি ঘাটতি থাকে। এতে প্রতিনিয়ত বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটির নিচের পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী মুসাইদ মাসরুর জানান, দিন দিন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই পানি ধরে রাখতে এবং আগামীতে সেচ নিশ্চিত করতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর জন্য এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তার দাবি, মৌসুমি ফসল হিসেবে বিভিন্ন জাতের ডাল, শাকসবজি, আলু উৎপাদন হয় অল্প সেচে। তাই কৃষকদের মৌসুমি ফসল উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. পলাশ সরকার জানান, এবছর বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ ইরি মৌসুমে ধানের আবাদ কমিয়ে দিয়েছে। নিরুৎসাহিত করে ডাল, গম, সরিষা, ভুট্টা জাতীয় ফসল চাষাবাদ করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির তীব্র সংকট, ধান চাষ না করার পরামর্শ

আপডেট সময় : ১২:৫৩:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্র‌তি‌নি‌ধি:  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর, নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলায় দিন দিন পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় । ভূগর্ভস্থ পানির তীব্র সংকটের আশঙ্কায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) সেখানে কৃষকদের ধান চাষ না করার পরামর্শ দিয়েছে। এতে কৃষকদের মাঝে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভূগর্ভস্থ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, নাচোল, গোমস্তাপুুর উপজেলা খাদ্য উৎপাদন এলাকা বরেন্দ্র অঞ্চলে এই সংকট প্রকট ও দীর্ঘ হচ্ছে। সূত্রমতে, এ কারণে ওই সব এলাকায় আগামীতে ইরি ধান চাষে নিরুৎসাহ দিচ্ছে বিএমডিএ। এতে আগামীতে খাদ্য উৎপাদনে চরম অনিশ্চয়তার শঙ্কা করা হচ্ছে। এতে কৃষকদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা গম, সরিষা চাষাবাদ করছেন। কৃষকরা জানান, বিএমডিএর এ সিদ্ধান্তে দেখা দিতে পারে চালের চরম সংকট। বিএমডিএর দাবি, আগামী দিনে পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতেই নেওয়া হয়েছে এমন উদ্যোগ।

বিএমডিএ সিদ্ধান্ত নিয়ে ইরি ধান চাষ না করতে ডিপ অপারেটর ও কৃষকদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করছে। এমনকি নির্দেশ অমান্য করে ধান চাষ করলে বেঁধে দেয়া সময়ের বেশি বিদ্যুৎ না দেয়ারও ঘোষণা দেয়া হয়েছে।।কৃষকরা জানান, আমাদের ধান ছাড়া লাভজনক তেমন অন্য কোনো ফসল উৎপাদন হয় না বরেন্দ্র অঞ্চলে। তাই বছরে তিনবার ধান চাষ করি। কিন্তু পানির সংকট বলে বিএমডিএ এবার ইরি ধান চাষ করতে নিষেধ করেছে।

প্রতিবছর ইরি ধান আবাদ করতে ১৭ থেকে ১৯টি সেচ লাগে। আর গম চাষ করতে মাত্র ২ টি সেচ লাগে। এ ছাড়া প্রতিবছর বৃষ্টির মাধ্যমে ভূগর্ভে পানি জমা হয় ৯০০ মিলিমিটারের মতো, অন্য দিকে এ জেলায় ফসল চাষে পানি লাগে ১৩০০ মিলিমিটার। ফলে প্রতিবছর ৪০০ মিলিমিটার পানি ঘাটতি থাকে। এতে প্রতিনিয়ত বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটির নিচের পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী মুসাইদ মাসরুর জানান, দিন দিন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই পানি ধরে রাখতে এবং আগামীতে সেচ নিশ্চিত করতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর জন্য এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তার দাবি, মৌসুমি ফসল হিসেবে বিভিন্ন জাতের ডাল, শাকসবজি, আলু উৎপাদন হয় অল্প সেচে। তাই কৃষকদের মৌসুমি ফসল উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. পলাশ সরকার জানান, এবছর বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ ইরি মৌসুমে ধানের আবাদ কমিয়ে দিয়েছে। নিরুৎসাহিত করে ডাল, গম, সরিষা, ভুট্টা জাতীয় ফসল চাষাবাদ করছেন।