মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ
মেহেরপুরের গাংনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ, দুর্নীতি ও হয়রানির বিস্তর অভিযোগ উঠেছে সাব-রেজিস্টার নাইমা ইসলামের বিরুদ্ধে। তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ জনগণ।
সম্প্রতি গাংনী উপজেলা পরিষদ হলরুমে জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়'র সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব অভিযোগ তুলে ধরেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন।বক্তারা অভিযোগ করেন, নাইমা ইসলাম যোগদানের পর থেকেই অফিসে দুর্নীতির মাত্রা অনেক বেড়েছে গেছে।সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে নির্ধারিত ফি' র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে, না হলে ফাইল আটকে রাখা বা নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে।বাঁশবাড়িয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্বপন বলেন, কমিশন রেজিস্ট্রি বন্ধ রয়েছে। ওয়ারিশ সনদ রেজিস্ট্রি থেকে ফাইলিং পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। টাকা ছাড়া কোনো কাজই হচ্ছে না।উপজেলা জামায়াত নেতা ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে, সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।সাংবাদিক জুলফিকার আলী কানন অভিযোগ করেন, দলিলে সামান্য ভুল দেখিয়ে ফাইল আটকে রেখে টাকা আদায় করা হচ্ছে, যা এক ধরনের প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। একই অভিযোগ করেন সাংবাদিক ফারুক আহমেদ, তিনি বলেন জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লিটন মাহমুদ বলেন, অফিসে একটি শক্তিশালী দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের মাধ্যমেই অবৈধ লেনদেন হয় এবং প্রতি সপ্তাহে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী কর্মস্থলে না থেকে সাব-রেজিস্টার প্রতিদিন অন্য জেলা থেকে যাতায়াত করেন।স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুর রহমান বলেন, একটি দলিল করতে গিয়ে বারবার ঘুরতে হয় এবং প্রতিটি ধাপে টাকা দিতে হয়। এই হয়রানি থেকে মুক্তি চান তিনি।সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান এবং নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে শুনে প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাব-রেজিস্টার নাইমা ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
প্রকাশক ও সম্পাদক: জালাল উদ্দিন||ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তহিরুল ইসলাম || মোবা: ০১৭১২-০৯৫৭৪৭ | ০১৯৭৬-৪৭৪৭১৪ বিজ্ঞাপন: ০১৭৪২-৮০১৭২৬ E-mail: saplanews24@gmail.com যোগাযোগের ঠিকানা ঢাকা অফিস: মা ম্যানশন, বাড়ি নং ২২৯ ব্লক-ডি মিজমিজি মৌচাক রোড সিদ্ধিরগঞ্জ, ঢাকা;শাখা অফিস: দর্শনা বাস স্ট্যান্ড- শাপলা ক্লিনিক গ্রাউন্ড ফ্লোর, দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা
www.saplanews24.com