চুয়াডাঙ্গায় কালবৈশেখী ঝড়ের তান্ডবে গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি।।মৃত-১
- আপডেট সময় : ০৮:৪৪:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ জেলায় কালবৈশেখী ঝড়ের দাপটে গাছ ভেঙে সড়কে যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটেছে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।একই সাথে ঝড়ে শহরতলীর দৌলৎদিয়াড়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত জেলায় ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি হয়। এ সময় প্রবল বাতাসে পা পিছলে তিনতলা থেকে পড়ে মকলেছুর রহমান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় গ্রামের সরদারপাড়ার মৃত মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে বাড়ির তিনতলার ছাদ থেকে টিন নামাচ্ছিলেন মকলেছুর রহমান। এ সময় হঠাৎ প্রবল বাতাসে ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে ঝড়ের কারণে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের ডিঙ্গেদহ বাজার এলাকায় সড়কের পাশের একটি মেহগণী গাছ ভেঙে পড়ে। এতে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাছ অপসারণে কাজ শুরু করেন।
এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়া ও ধান এবং নাবি ভুট্টার ফসলের ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট আবাদকৃত ৯৭হাজার ৩৬৯ হেক্টর জমির মধ্যে প্রায় ৩৯৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ভুট্টার, যার পরিমাণ ২৬৩ হেক্টর।
এছাড়া ৬০ হেক্টর বোরো ধান, ৪১ হেক্টর কলা, ১১ হেক্টর পেঁপে, ১২ হেক্টর সবজি, ৫ হেক্টর আম এবং ৩ হেক্টর পানক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ঝড়ের কারণে ফলনের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মিঠু চন্দ্র অধিকারী জানান, আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগ বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান দৈনিক মাথাভাঙ্গাকে বলেন, রাত ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৯টা ০৫ মিনিট পর্যন্ত জেলায় ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়।

















