জীবননগর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাচার কালে ৪ শিশুসহ ৮ বাংলাদেশী উদ্ধার করেছে পুলিশ।
- আপডেট সময় : ০৬:০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

জীবননগর প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাচারের সময় ৪ শিশুসহ ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুই দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল ৫টায় জীবননগর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো জীবননগর উপজেলার বেনীপুর এলাকার বাসিন্দা ইসরাফিল (৩২) ও উজ্জ্বল হোসেন (৪০)। উদ্ধারকৃতরা হলেন নড়াইল জেলার দোহা মল্লিকপাড়া গ্রামের রাকিব মোল্লা (৩৭), তার স্ত্রী নাইস মিনা খানম (৩০), আমির হোসেন মোল্লার ছেলে লিমন মোল্লা ও তার স্ত্রী সাথী খাতুন (২৫)। এবং তাদের ৪ জন শিশু সন্তান রিহান মোল্লা, ফাতেমা খাতুন (১০), ফারিয়া খাতুন (২) ও ইসমাইল মোল্লা (১)।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কয়েকজন আগে অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করতেন এবং প্রায় ৭-৮ মাস আগে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরেন। পরে পুনরায় ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা দালাল চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দালালরা ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে কারখানায় ভালো কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় চুক্তি করে। যশোরের মনিরামপুর এলাকার এক দালালের মাধ্যমে জীবননগরের স্থানীয় দালালদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ করানো হয়।
পরে রোববার ভোর ৩টার দিকে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে গিয়ে দালালরা তাদের ভারতে পার করে না দিয়ে বরং স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় রাকিব মোল্লা নামের এক ভিকটিমকে মারধর করে দালালরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জড়িত দুই দালালকে গ্রেপ্তার করে। পরে আহতদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জীবননগর থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মো. আনোয়ারুল কবীর, জীবননগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. সোলায়মান শেখ এবং পরিদর্শক (অপারেশন) আতিয়ার রহমান।














