আলমডাঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকসহ আটক ৩: জব্দ করা হলো প্রাইভেটকার।
- আপডেট সময় : ০৪:২৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে

মোঃ নাঈম উদ্দীন
স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পুলিশের কঠোর মাদকবিরোধী অভিযানে আবারও সাফল্য মিলেছে। শুক্রবার বিকেলে মুন্সিগঞ্জ বাজার এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। এসময় মাদক বহনে ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার জব্দ করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশনায় থানা এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম চালানো হয়। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মুন্সিগঞ্জ বাজার এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, একটি প্রাইভেটকারে করে মাদকের একটি চালান নিয়ে কয়েকজন যুবক বাজারের দিকে আসছে।
সংবাদ পাওয়ামাত্রই পুলিশ সদস্যরা মুন্সিগঞ্জ বাজারের রেলগেট সংলগ্ন একটি ফলের দোকানের সামনে অবস্থান নেন।
সন্দেহভাজন সাদা রঙের প্রাইভেটকারটি সেখানে পৌঁছালে পুলিশ সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালায়। এসময় গাড়ি থেকে ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং গাড়িতে থাকা তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত তিন যুবকই আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার বাসিন্দা। তারা হলেন:
১. সবুজ আলী (২২): আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার গোবিন্দপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে।
২. জীবন আলী (২১): একই গ্রামের মাদ্রাসা পাড়ার আব্দুল লতিফের ছেলে।
৩. শামীম হোসেন (৩৩): গোবিন্দপুর মাঠপাড়ার রজব আলীর ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মুন্সিগঞ্জ বাজার এলাকাকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিল। তারা বিভিন্ন সময়ে নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করে মাদক সরবরাহ করে।
আজকের অভিযানে একটি প্রাইভেটকার জব্দ হওয়ার ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে, মাদক কারবারিরা এখন যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার করছে। পুলিশের এই তাৎক্ষণিক তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। জব্দকৃত গাঁজা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পুরাতন সাদা রঙের প্রাইভেটকারটি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
থানা পুলিশের বার্তা “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। আলমডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান আগামীতেও চলমান থাকবে।”
গ্রেফতারকৃত আসামিদের সংশ্লিষ্ট মামলায় বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।









