চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেলের মজুদ ও বিপণন নিয়ে জেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা
- আপডেট সময় : ০৯:০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

মোঃ নাঈম উদ্দীন
স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা।
চুয়াডাঙ্গা জেলায় জ্বালানি তেলের মজুদ বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং বিপণন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার (২৯ মার্চ) বেলা ১১:৩০ ঘটিকায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। এছাড়াও সভায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিজিবি প্রতিনিধি, জ্বালানি তেল পাম্প মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, কৃষক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলার বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয় এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা প্রদান করা হয়:
মজুদ ও সরবরাহ পর্যালোচনা: জেলার পাম্পগুলোতে বর্তমানে কী পরিমাণ ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন মজুদ রয়েছে এবং সামনের দিনগুলোতে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহের ঘাটতি আছে কি না, তা বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
কৃত্রিম সংকট রোধ: কোনো অসাধু চক্র যেন জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সঠিক মূল্য ও মান নিশ্চিতকরণ: সরকার নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি এবং ভোক্তারা যাতে মানসম্মত ও সঠিক ওজনের জ্বালানি পায়, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নিরাপত্তা ও পরিবহন: জ্বালানি তেলের নির্বিঘ্ন পরিবহন নিশ্চিত করতে এবং পাম্পগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন,
“জ্বালানি তেল একটি অতি জরুরি পণ্য। এর ওপর কৃষি ও পরিবহন খাত নির্ভরশীল। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে জেলা প্রশাসন তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করবে। কোনো ধরণের অনিয়ম বা কালোবাজারি পরিলক্ষিত হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, “জ্বালানি তেলের পরিবহন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশ বাহিনী সবসময় সজাগ রয়েছে। পাম্পগুলোতে যাতে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সেদিকে আমাদের নজরদারি থাকবে।”
পাম্প মালিক সমিতি ও ডিলারদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা জরুরি। আসন্ন সেচ মৌসুম বা উৎসবের দিনগুলোতে যাতে কোনো সংকট তৈরি না হয়, সে লক্ষে এখন থেকেই কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সভা সমাপ্ত হয়।



















