স্মৃতিতে রক্তঝরা ২৫ মার্চ: চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় গণহত্যা দিবস পালিত।
- আপডেট সময় : ০৮:৫৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় নিহত শহীদদের স্মরণে চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘গণহত্যা দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ বুধবার সকাল ৯টায় জেলা শহরের ‘ডিসি সাহিত্য মঞ্চে’ এক আবেগঘন স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এ্যাড.মোঃ মাসুদ পারভেজ রাসেল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।
এছাড়াও সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-ডাঃ হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ, সিভিল সার্জন, চুয়াডাঙ্গা,প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক অধ্যক্ষ, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ। আবেছ উদ্দিন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা সহ-কমান্ডার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। শরিফুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপি।
আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৭১ সালের সেই বিভীষিকাময় রাতের কথা স্মরণ করেন। তারা বলেন, ২৫শে মার্চের মধ্যরাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ঢাকা ও চুয়াডাঙ্গাসহ সারা দেশে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ঘুমন্ত মানুষের ওপর চালানো সেই নির্মম তান্ডব বিশ্বের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন কলঙ্কজনক অধ্যায়।
বক্তারা চুয়াডাঙ্গা জেলার বধ্যভূমিগুলোর করুণ ইতিহাস তুলে ধরে জানান যে, স্বাধীনতার পর চুয়াডাঙ্গার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা গণকবরগুলোতে অগণিত মানুষের কঙ্কাল ও হাড়গোড় পাওয়া গিয়েছিল। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা, আলমডাঙ্গা, মাথাভাঙ্গা নদীর তীর, বাবলাবাগান এবং নাটুদহ এলাকার মাটি আজও সেই ভয়াবহতার সাক্ষ্য বহন করছে।
আলোচনা সভায় স্থানীয় বধ্যভূমিগুলোর তালিকা ও সেখানে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিবরণ দেওয়া হয়:
সদর হাসপাতাল ও মাথাভাঙ্গা তীর: যেখানে নির্বিচারে হত্যার পর লাশ ফেলে রাখা হতো।
আলমডাঙ্গা ও নাটুদহ বধ্যভূমি: সম্মুখযুদ্ধ ও নির্যাতনের পর অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে এখানে হত্যা করা হয়। দশমাইল, শরৎগঞ্জ ও ডিঙ্গোদহ: পাকবাহিনীর ক্যাম্পের পাশে গড়ে ওঠা এসব বধ্যভূমিতে সাধারণ মানুষকে ধরে এনে জবাই করা হতো।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ্যাড.মোঃ মাসুদ পারভেজ বলেন, “আমাদের স্বাধীনতার মূল্য অনেক বেশি। নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে কীভাবে এই ভূখণ্ড অর্জিত হয়েছে। গণহত্যার সঠিক ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও মাঠ পর্যায়ে গিয়ে তাদের অনুধাবন করতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণে জেলা প্রশাসন সদা তৎপর এবং এই স্থানগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।


















