দর্শনা ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বাগমারায় র‍্যাবের ঝটিকা অভিযান ৫৬টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার। শান্তিগঞ্জে ধানের শীষের সমর্থনে গণমিছিল ও পথসভা বর্তমান প্রশাসন নিরপেক্ষতা বজায় রাখলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে—চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ধানের শীষের কান্ডারী মাহমুদ হাসান খান বাবু। গোমস্তাপুরে র‍্যাবের অভিযান পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রসহ নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলায় ১৯.৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন। লোকসানের শঙ্কা নিয়ে শেষ হলো দর্শনা চিনি কলের মাড়াই মৌসুম। দর্শনায় বাবু খানের সমর্থনে বিশাল এক নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত। রাজশাহী-১ আসনে এবি পার্টির প্রার্থী ড. মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান মুহসেনীর গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ পানছড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বসতঘর পুড়ে ছাই হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ডেবিল হান্ট টু এর অভিযানে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিক গ্রেফতার

বর্তমান প্রশাসন নিরপেক্ষতা বজায় রাখলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে—চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ধানের শীষের কান্ডারী মাহমুদ হাসান খান বাবু।

Sapla News
  • আপডেট সময় : ০৬:২৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৯৮ বার পড়া হয়েছে

 

শাপলা নিউজ ডেস্কঃ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাহমুদ হাসান খান বাবু। নির্বাচনী পরিবেশ ও ভোটারদের প্রতি প্রতিশ্রুতি নিয়ে কথা বলেছেন। চুয়াডাঙ্গার প্রখ্যাত সাংবাদিক রিফাত রহমানের সাথে দেয়া সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো—-

প্রশ্নঃ নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাই।
উত্তরঃ-সার্বিকভাবে নির্বাচনী পরিবেশ এখনো পর্যন্ত ভালো। তবে এ পরিবেশ ধরে রাখতে হলে প্রশাসনকে শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের ভেতরে দলীয় ব্যক্তি কেউ যদি থেকে থাকে, তাকে নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা উচিত। যারা নিরপেক্ষ, যারা কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না; তাদের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে আমি মনে করি।

প্রশ্নঃ নির্বাচনী প্রচারণা সম্পর্কে বলুন।
উত্তরঃ আমরা বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্নভাবে জনগণের কথা শুনছি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ছোট ছোট পথসভা করছি। এর উদ্দেশ্য হলো জনগণের কাছে ও পাশে থাকা। কাছে-পাশে থাকার মাধ্যমে স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছি জনগণের কী কী সমস্যা আছে। ফলে নির্বাচিত হলে আমাদের জন্য এসব সমস্যার সমাধানে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে।

প্রশ্নঃ প্রচারণা চালাতে গিয়ে স্থানীয়দের জীবন যাপনে কোন কোন সমস্যা আপনার চোখে পড়ছে?
উত্তরঃ ইউনিয়নভিত্তিক কর্মসূচি ও ছোট ছোট পথসভা করতে গিয়ে জনসাধারণের অনেক প্রয়োজন ও দাবি চিহ্নিত করেছি। সেগুলো দ্রুত সমাধানে পদক্ষেপ নিতে চাই। যেমন একটি নির্দিষ্ট গ্রামে আমরা দেখতে পেয়েছি, সেখানকার পানিতে প্রচুর আর্সেনিক। ওই গ্রামের মানুষের দাবি, তাদের জন্য যেন আর্সেনিক মুক্ত পানির ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। কোনো একটি ওয়ার্ড একটি প্রাইমারি স্কুলের প্রয়োজন। সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একাধিক জায়গায় দেখেছি তরুণ প্রজন্মের প্রধান দাবি হলো খেলার মাঠ। মাঠের জন্য জায়গা বরাদ্দ আছে কিন্তু সেটি খেলার উপযোগী নেই। এছাড়া জনসাধারণের কাছ থেকে আর যেসব দাবি উঠে আসছে, তার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সগুলোকে যেন উন্নত করা হয়। সেখানকার পরিবেশ যেন ভালো থাকে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন উন্নতি হয়, যাতে জনগণ স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ব্যবসা-চাকরিসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে পারেন। প্রতিটি জায়গায় আমরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছি এবং সমস্যাগুলো গ্রহণ করছি, নোট করছি। সে অনুযায়ী ভবিষ্যতে আমরা এসব দাবি পূরণে পদক্ষেপ নেব।

প্রশ্নঃ ভোটারদের প্রতি আপনার প্রতিশ্রুতি কী?
উত্তরঃ জনগণ ভোট দিয়ে যদি আমাকে নির্বাচিত করে, তাহলে আমাদের নির্বাচনী ইশতাহার বাস্তবায়ন করব। এটিকে দুটি ভাগে ভাগ করতে পারি আমরা। একটি হলো জাতীয় পর্যায়ের ইশতাহার, আরেকটি হলো স্থানীয় পর্যায়ের মানুষদের জন্য ইশতাহার। জাতীয় ইশতাহারে যেসব বিষয় এরই মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, সেগুলো হলো ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, প্রতিটি গ্রামে অন্তত একজন করে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, খালকাটা কর্মসূচি, পরিবেশ উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি নিয়ে কাজ করা। আর স্থানীয়ভাবে আমরা যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি, সেগুলো হচ্ছে চুয়াডাঙ্গা জেলায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা। এ এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা। এখানে আরেকটি বিষয়ে আমাদের মনে রাখতে হবে, বিশেষ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে শুধু স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই হবে না। এগুলোয় মানসম্মত শিক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে এবং তাদের নিয়োগে যেন কোনো দুর্নীতি না হয়, সে ব্যাপারেও আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রশ্নঃ নির্বাচিত হলে এ এলাকায় তৈরি পোশাক শিল্পের বিস্তার নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
উত্তরঃ আমি নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গা অথবা বৃহত্তর যশোর-কুষ্টিয়া জেলায়ও যাতে পোশাক শিল্পের বিস্তার লাভ করে, সে বিষয়ে কাজ করব। আর এর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি সম্পর্ক আছে। কারণ বিদেশী ক্রেতারা ফ্যাক্টরি ভিজিট করতে চান। যোগাযোগ ব্যবস্থার যদি উন্নয়ন ঘটে, তাহলে শিল্পের বিস্তার ঘটানো সম্ভব। এজন্য সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও মনোযোগ দেয়া হবে।#

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বর্তমান প্রশাসন নিরপেক্ষতা বজায় রাখলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে—চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ধানের শীষের কান্ডারী মাহমুদ হাসান খান বাবু।

আপডেট সময় : ০৬:২৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

শাপলা নিউজ ডেস্কঃ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাহমুদ হাসান খান বাবু। নির্বাচনী পরিবেশ ও ভোটারদের প্রতি প্রতিশ্রুতি নিয়ে কথা বলেছেন। চুয়াডাঙ্গার প্রখ্যাত সাংবাদিক রিফাত রহমানের সাথে দেয়া সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো—-

প্রশ্নঃ নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাই।
উত্তরঃ-সার্বিকভাবে নির্বাচনী পরিবেশ এখনো পর্যন্ত ভালো। তবে এ পরিবেশ ধরে রাখতে হলে প্রশাসনকে শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের ভেতরে দলীয় ব্যক্তি কেউ যদি থেকে থাকে, তাকে নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা উচিত। যারা নিরপেক্ষ, যারা কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না; তাদের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে আমি মনে করি।

প্রশ্নঃ নির্বাচনী প্রচারণা সম্পর্কে বলুন।
উত্তরঃ আমরা বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্নভাবে জনগণের কথা শুনছি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ছোট ছোট পথসভা করছি। এর উদ্দেশ্য হলো জনগণের কাছে ও পাশে থাকা। কাছে-পাশে থাকার মাধ্যমে স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছি জনগণের কী কী সমস্যা আছে। ফলে নির্বাচিত হলে আমাদের জন্য এসব সমস্যার সমাধানে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে।

প্রশ্নঃ প্রচারণা চালাতে গিয়ে স্থানীয়দের জীবন যাপনে কোন কোন সমস্যা আপনার চোখে পড়ছে?
উত্তরঃ ইউনিয়নভিত্তিক কর্মসূচি ও ছোট ছোট পথসভা করতে গিয়ে জনসাধারণের অনেক প্রয়োজন ও দাবি চিহ্নিত করেছি। সেগুলো দ্রুত সমাধানে পদক্ষেপ নিতে চাই। যেমন একটি নির্দিষ্ট গ্রামে আমরা দেখতে পেয়েছি, সেখানকার পানিতে প্রচুর আর্সেনিক। ওই গ্রামের মানুষের দাবি, তাদের জন্য যেন আর্সেনিক মুক্ত পানির ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। কোনো একটি ওয়ার্ড একটি প্রাইমারি স্কুলের প্রয়োজন। সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একাধিক জায়গায় দেখেছি তরুণ প্রজন্মের প্রধান দাবি হলো খেলার মাঠ। মাঠের জন্য জায়গা বরাদ্দ আছে কিন্তু সেটি খেলার উপযোগী নেই। এছাড়া জনসাধারণের কাছ থেকে আর যেসব দাবি উঠে আসছে, তার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সগুলোকে যেন উন্নত করা হয়। সেখানকার পরিবেশ যেন ভালো থাকে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন উন্নতি হয়, যাতে জনগণ স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ব্যবসা-চাকরিসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে পারেন। প্রতিটি জায়গায় আমরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছি এবং সমস্যাগুলো গ্রহণ করছি, নোট করছি। সে অনুযায়ী ভবিষ্যতে আমরা এসব দাবি পূরণে পদক্ষেপ নেব।

প্রশ্নঃ ভোটারদের প্রতি আপনার প্রতিশ্রুতি কী?
উত্তরঃ জনগণ ভোট দিয়ে যদি আমাকে নির্বাচিত করে, তাহলে আমাদের নির্বাচনী ইশতাহার বাস্তবায়ন করব। এটিকে দুটি ভাগে ভাগ করতে পারি আমরা। একটি হলো জাতীয় পর্যায়ের ইশতাহার, আরেকটি হলো স্থানীয় পর্যায়ের মানুষদের জন্য ইশতাহার। জাতীয় ইশতাহারে যেসব বিষয় এরই মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, সেগুলো হলো ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, প্রতিটি গ্রামে অন্তত একজন করে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, খালকাটা কর্মসূচি, পরিবেশ উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি নিয়ে কাজ করা। আর স্থানীয়ভাবে আমরা যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি, সেগুলো হচ্ছে চুয়াডাঙ্গা জেলায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা। এ এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা। এখানে আরেকটি বিষয়ে আমাদের মনে রাখতে হবে, বিশেষ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে শুধু স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই হবে না। এগুলোয় মানসম্মত শিক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে এবং তাদের নিয়োগে যেন কোনো দুর্নীতি না হয়, সে ব্যাপারেও আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রশ্নঃ নির্বাচিত হলে এ এলাকায় তৈরি পোশাক শিল্পের বিস্তার নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
উত্তরঃ আমি নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গা অথবা বৃহত্তর যশোর-কুষ্টিয়া জেলায়ও যাতে পোশাক শিল্পের বিস্তার লাভ করে, সে বিষয়ে কাজ করব। আর এর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি সম্পর্ক আছে। কারণ বিদেশী ক্রেতারা ফ্যাক্টরি ভিজিট করতে চান। যোগাযোগ ব্যবস্থার যদি উন্নয়ন ঘটে, তাহলে শিল্পের বিস্তার ঘটানো সম্ভব। এজন্য সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও মনোযোগ দেয়া হবে।#