ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের নিকটবর্তী ডিঙ্গেদহ সোহরা ওয়ার্দ্দী স্মরনী বিদ্যাপীঠের দুর্ণীতিতে হ্যাট্রিক ও সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক শাহিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে দায়েরকৃত মামলা তুলে নিতে বাদি এসএমসি' র সদস্য শওকত মাহামুদকে হুমকি ধামকি ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে।এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় চলছে।
প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক ও মামলার অভিযোগ সুত্রে জানায় যায়, ২০ মার্চ ২০১৩ ইং তারিখে শাহিনুল ইসলাম ডিঙ্গেদহ সোহরাওয়ার্দ্দী স্মরনী বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের সাথে অসদাচারন ও বিদ্যালয়ের অর্থ তছরুপে মেতে ওঠেন। বিদ্যালয়ে অভ্যান্তরিন অডিটে যোগদানের পর হতেই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাত হতে ১'লাখ ৫১' হাজার ৮৬০ টাকা আত্মসাৎ করেন। পতিত স্বৈরাচারের সময় ২৫ ফেব্রুয়ারি'২০১৪ ইং তারিখে টাকা ফেরত দিবে বলে লিখিত দেন এবং ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু টাকা ফেরৎ না দিয়ে ছলচাতুরি করতে থাকেন। এরপর আবার ১ লা ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ইং তারিখ হতে ৩১ ডিসেম্বর '২০১৫ ইং তারিখ পর্যন্ত ৩ লাখ ৬৬ হাজার ২৬৩ টাকা এবং ১ জানুয়ারি ২০১৬ হতে ২৭ মে ২০১৭ ইং তারিখ পর্যন্ত ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৪২৩ টাকা সর্বমোট ৮ লাখ ৩২ হাজার ৬৮৬ টাকা আত্মসাৎ করেন।টাকা ফেরতের জন্য বার বার নোটিশ দেয়ার পর টাকা ফেরৎ না দিলে গত ৭ জুন '২০১৭ ইং তারিখে বিদ্যালয় হতে শাহিনুলকে সাময়িক বরখস্ত করা হয়। এরপর বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক শাহিনুল বরখাস্ত আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে গত ১৪ জুন২০১৭ তারিখ একটি রিট করেন। এই বিদ্যালয়ের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে বিগত ১৩ জুলাই ২০১৭ ইং তারিখে এক আদেশে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন। এরপর বিদ্যালয়ের টাকা উদ্ধারের জন্য গত ২ নভেম্বর ২০১৭ইং তারিখে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সিনিয়র জুডিসিয়াল আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং পি-৪০৭/১৭। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর থানাকে দায়িত্ব দেন। তদন্তে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আছে বলে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দারস্থ হন এবং তাদের সুপারিশে আর কোনদিন বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাৎ করবে না বলে ৩০০ টাকা মুল্যে নন-জুডিশিয়াল চ্যাম্পে স্বাক্ষর করে সমুদয় টাকা ফেরৎ প্রদান করে পুনরায় অর্থাৎ ২য় বারের মত চাকুরিতে যোগদান করেন। চাকুরিতে যোগদান করার পর তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। যুবলীগের সাথে মিশে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের প্রয়াত চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের ভাইয়ের জামাই ও বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামের রুমে ৫ মাস তালা দিয়ে রাখেন।প্রধান শিক্ষক শাহিনুলের ক্ষমতার দাপটে অফিস সহকারী সাইফুলের রুমের তালা কেউ খুলতে পারে না। অবশেষে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে অফিস সহকারী সাইফুলের অফিস কক্ষের তালা খুলে দেয়া হয়। এর মধ্যে ১ জানুয়ারি ২০২০ ইং তারিখ হতে ২ মার্চ ২০২১ ইং তারিখ পর্যন্ত আবারো ২ লাখ ৬৩ হাজার ৫২৩টাকা আত্মসাৎ করেন। এরপর টাকা ফেরতের জন্য পরপর ৩ টি চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক সুকৌশলে এড়িয়ে যান। এরপর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রধান শিক্ষক শাহিনুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেন এবং টাকা উদ্ধারের জন্য বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শওকত মাহামুদকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে শাহিনুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে নির্দেশনা দিলে তিনি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। প্রধান শিক্ষক শাহিনুলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ইং তারিখে ২৭ জন শিক্ষক কর্মচারী অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শাহিনুল হকের বিরুদ্ধে একটি অনাস্থা প্রস্থাবনামা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নিকট প্রদান করেন। মামলাটি বিদ্যালয়ের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে গত ১৩ জুলাই ২০১৭ তারিখে এক আদেশে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন। এরপর বিদ্যালয়ের টাকা উদ্ধারের জন্য গত ২ নভেম্বর ২০১৭ ইং তারিখ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির তৎকালীন সভাপতি হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং পি-৪০৭/১৭। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর থানাকে দায়িত্ব দেন। তদন্তে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আছে বলে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দারস্ত হন এবং তাদের সুপারিশে আর কোনদিন বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাৎ করবে না বলে ৩০০ টাকা মুল্যে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে সমুদয় টাকা ফেরৎ প্রদান করে পুনরায় অর্থাৎ ২বারের মত চাকুরিতে যোগদান করেন। চাকুরিতে যোগদান করার পর তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বর্তমানে মামলাটি চুয়াডাঙ্গা জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে চলমান রয়েছে। এ নিয়ে সম্প্রতি মামলাটি তুলে নেয়া ও চাকুরিতে বহালের জন্য শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন বিএনপি র সাধারন সম্পাদক আরশাদ উদ্দিন রুবেলের সহযোগিতায় চুয়াডাঙ্গা হতে বিএনপির ক্যাডার সাদিদ ও রাশেদকে এনে হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করছেন বলে আভিযোগ উঠেছে।যেখানে বিদ্যালয়ে ৪ জন বিশিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি সেখানে শুধু মাত্র সভাপতি রেজুলেশন খাতায় সহি করে নিজের ক্ষমতার অপব্যাবহার করে বাদীর নিকট মামলা তুলে নেয়ার জন্য চিঠি প্রদান করা হয়েছে যা সম্পূর্ন বেআইনী ও অবৈধ। সম্প্রতি বিএনপির সাধারন সম্পাদক আরশাদ উদ্দিন রুবেল ও বর্তমান ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রাকিব চুয়াডাঙ্গা শহর হতে সাদিদ ও রাশেদকে নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে ভয়ে মামলার বাদী ও বিদ্যলয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গা ঢাকা দেন। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপি'র সহসভাপতি ও মিলন সংঘের সভাপতি আব্দুল হাই স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বাধা সৃষ্টি করেন । সম্প্রতি বিএনপির সাধারন সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন রুবেল মামলার বাদীকে মামলা না তুললে বাদীর বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিতে থাকে। এ অবস্থায় নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে মামলার বাদী শওকত মাহামুদ। আতংকিত হয়ে পড়েছে শাহিনুলের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা শিক্ষক কর্মচারীরা। এ ব্যাপারে স্হানীয় যুবদল নেতা হাসান বলেন- শাহিনুল কখনই বিএনপি করেনি। সে এখানে স্থানীয় যুবলীগের সাথে চলাফেরা করতো এবং যুবলীগের সুপারিশে ১০ বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোয়াটার দখল করে বসবাস করেছে। এভাবে যদি অভিযুক্তরা পার পেয়ে যায় তবে প্রতিষ্ঠান গুলির কি হবে?কে দিবে আত্মসাৎকৃত টাকা? এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির মধ্যে ব্যাপক মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শাহিনুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে,তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।তিনি কোন হুমকি ধামকি ও চাপ দেননি।পূর্বের বিষয়টি আইনগতভাবে সমাধান হয়ে গেছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক: জালাল উদ্দিন||ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তহিরুল ইসলাম || মোবা: ০১৭১২-০৯৫৭৪৭ | ০১৯৭৬-৪৭৪৭১৪ বিজ্ঞাপন: ০১৭৪২-৮০১৭২৬ E-mail: saplanews24@gmail.com যোগাযোগের ঠিকানা ঢাকা অফিস: মা ম্যানশন, বাড়ি নং ২২৯ ব্লক-ডি মিজমিজি মৌচাক রোড সিদ্ধিরগঞ্জ, ঢাকা;শাখা অফিস: দর্শনা বাস স্ট্যান্ড- শাপলা ক্লিনিক গ্রাউন্ড ফ্লোর, দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা
www.saplanews24.com