দর্শনা ১০:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পানছড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বসতঘর পুড়ে ছাই হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ডেবিল হান্ট টু এর অভিযানে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিক গ্রেফতার গোবিন্দগঞ্জে আলু চাষাবাদের আধুনিক প্রযুক্তি, বহুমুখী ব্যবহার ও হিমাগার গুণগত মান শীর্ষক কর্মশালা ২০২৬ ​রাজশাহীতে র‍্যাবের অভিযান বিদেশি রিভলবার ও ওয়ান শুটারগানসহ বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার। জীবননগর সীমান্ত বিজিবি র পৃথক অভিযানে নেশাজাতীয় দ্রব্যসহ আটক-২। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ১৪০ পিছ ইয়াবা সহ সেনাবাহিনীর হাতে ৩ ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেফতার ডিঙ্গেদহ হাই স্কুলের সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক শাহিনুল’র গুরুতর অভিযোগ–আইনগতভাবে সমাধানের দাবী করেছেন প্রধান শিক্ষক শাহিনুল। নেহালপুর ইউনিয়ন ১ নং ওয়ার্ড বিএনপি র অফিস উদ্ভোধন। সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভপুরে ডিবি’র অভিযানে ৯৫০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার, গ্রেফতার-২ চুয়াডাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন।

জীবননগর থানার নাট্যকার ওসি মামুন’র বিরুদ্ধে মহিলাদের মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলন।

  • আপডেট সময় : ০৫:২৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ৩১৯ বার পড়া হয়েছে

জিবননগর প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর সীমান্তে এক ‘কল্পিত স্বর্ণ ছিনতাই মামলা’ ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে—একদল স্বর্ণ চোরাকারবারীর সঙ্গে যোগসাজশে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস একটি ভুয়া মামলা সাজিয়ে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে জেলে পাঠিয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর সীমান্ত বহু বছর ধরেই স্বর্ণ চোরাচালানের ‘রুট’ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যেই ‘ছিনতাই’ নাটক সাজিয়ে প্রকৃত চোরাকারবারীরা পালিয়ে যায়, আর নিরীহ মানুষ ফেঁসে যায়।১৩ নভেম্বর) বিকেলে জীবননগর উপজেলা শহরের মুক্তমঞ্চে ভুক্তভোগী পরিবারের নারী সদস্যরা মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ তুলেছেন।

লিখিত বক্তব্যে নতুনপাড়া গ্রামের রাসেলের স্ত্রী তহমিনা বলেন, ‘গত ২ নভেম্বর গোয়ালপাড়া গ্রামে কথিত একটি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের কাহিনী বানানো হয়। অথচ সেটি থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয় ৮ দিন পর, গত ১০ নভেম্বর। এই অযৌক্তিক বিলম্ব থেকেই বোঝা যায় মামলাটি সাজানো।’

মামলার বাদী ঢাকা তাঁতিবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী দাবিদার আকিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তার কর্মচারী শাহাজামালের মাধ্যমে জীবননগরের এসবি জুয়েলার্সে স্বর্ণ পাঠানো হলে তা ছিনতাই হয়। কিন্তু ভুক্তভোগী পক্ষ বলছে, “স্বর্ণ পাঠানোর কথা ছিল শহরের মোল্লা মার্কেটের দোকানে—যা ছিনতাইয়ের কথিত স্থান থেকে ৪-৫ কিলোমিটার দূরে। সেখানে গিয়ে স্বর্ণবাহক শাহাজামাল কী করছিলেন?”

তাছাড়া বাদী মামলা করতে দেরি করেছেন ৮ দিন। স্থানীয়দের মতে, “এই সময়ের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে মামলা সাজানো হয়েছে।”অভিযোগ রয়েছে, মামলার সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম দেওয়া হয়েছে—তারা সকলেই একই পরিবারের সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত।

তহমিনা বলেন, “একই পরিবারের ৩জন কিভাবে একই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন? এটা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় মামলাটি সাজানো।”

জীবননগর থানার ওসি মামুন হোসেন বিশ্বাসের নামও এসেছে এই বিতর্কে। অভিযোগকারীরা বলেন, “ওসি মামুন চোরাকারবারীদের সহায়তায় কল্পিত মামলাটি নথিভুক্ত করেছেন। কেন তিনি যাচাই না করেই মামলা নিলেন, তা রহস্যজনক।”

তাদের দাবি, এই ছিনতাই নাটক মামলায় যারা এজাহারভুক্ত তারা সকলেই নির্দোষ। তাদের মোবাইল লোকেশন যাচাই করলেই উঠে আসবে চাঞ্চল্যকর মামলায় ফাঁসানোর তথ্য ! স্বর্ণের দাবিদার আকিদুল, এসবি জুয়েলার্সের মালিক সজিব, সাক্ষীগণ শাহাজামাল ও তার ছেলে মুরাদ এবং তার নাতী ছেলে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাসের হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জার অথবা মোবাইল ফোন কল তালিকা তুলে যাচাই করলে বেরিয়ে আসবে প্রকৃত ছিনতাই রহস্য।

ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, মামলাটি নথিভুক্ত করতে ঢাকার এক অতিরিক্ত আইজিপি চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারকে ফোন করেছিলেন—এমন দাবি করেছেন স্বয়ং ওসি মামুন হোসেন। এই বক্তব্য জনমনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে—সত্যিই কি ওপর মহলের চাপে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছিল?

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা বলেন, “আমরা নির্দোষ। প্রকৃত চোরাকারবারীরা বেঁচে গেছে, সাধারণ মানুষ বলির পাঁঠা হয়েছে। আমাদের নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে লাগাতার আন্দোলন চলবে।” তারা আরও জানান, যদি সুষ্ঠু তদন্ত না হয়, তবে তারা আদালতের আশ্রয় নেবেন।

ভুয়া মামলা নথিভুক্ত করার বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে ঠিকই কিন্তু এটার তদন্ত করা হবে। ভুয়া মামলা তদন্তের আগেই কিভাবে চাপিয়ে দেয় ও অভিযোগে শ্রমজীবী নিরীহ মানুষদের কেন আটক করা হলো – এমন প্রশ্ন করা হলে কোন জবাব দিতে পারেননি ওসি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জীবননগর থানার নাট্যকার ওসি মামুন’র বিরুদ্ধে মহিলাদের মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলন।

আপডেট সময় : ০৫:২৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

জিবননগর প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর সীমান্তে এক ‘কল্পিত স্বর্ণ ছিনতাই মামলা’ ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে—একদল স্বর্ণ চোরাকারবারীর সঙ্গে যোগসাজশে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস একটি ভুয়া মামলা সাজিয়ে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে জেলে পাঠিয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর সীমান্ত বহু বছর ধরেই স্বর্ণ চোরাচালানের ‘রুট’ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যেই ‘ছিনতাই’ নাটক সাজিয়ে প্রকৃত চোরাকারবারীরা পালিয়ে যায়, আর নিরীহ মানুষ ফেঁসে যায়।১৩ নভেম্বর) বিকেলে জীবননগর উপজেলা শহরের মুক্তমঞ্চে ভুক্তভোগী পরিবারের নারী সদস্যরা মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ তুলেছেন।

লিখিত বক্তব্যে নতুনপাড়া গ্রামের রাসেলের স্ত্রী তহমিনা বলেন, ‘গত ২ নভেম্বর গোয়ালপাড়া গ্রামে কথিত একটি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের কাহিনী বানানো হয়। অথচ সেটি থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয় ৮ দিন পর, গত ১০ নভেম্বর। এই অযৌক্তিক বিলম্ব থেকেই বোঝা যায় মামলাটি সাজানো।’

মামলার বাদী ঢাকা তাঁতিবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী দাবিদার আকিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তার কর্মচারী শাহাজামালের মাধ্যমে জীবননগরের এসবি জুয়েলার্সে স্বর্ণ পাঠানো হলে তা ছিনতাই হয়। কিন্তু ভুক্তভোগী পক্ষ বলছে, “স্বর্ণ পাঠানোর কথা ছিল শহরের মোল্লা মার্কেটের দোকানে—যা ছিনতাইয়ের কথিত স্থান থেকে ৪-৫ কিলোমিটার দূরে। সেখানে গিয়ে স্বর্ণবাহক শাহাজামাল কী করছিলেন?”

তাছাড়া বাদী মামলা করতে দেরি করেছেন ৮ দিন। স্থানীয়দের মতে, “এই সময়ের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে মামলা সাজানো হয়েছে।”অভিযোগ রয়েছে, মামলার সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম দেওয়া হয়েছে—তারা সকলেই একই পরিবারের সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত।

তহমিনা বলেন, “একই পরিবারের ৩জন কিভাবে একই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন? এটা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় মামলাটি সাজানো।”

জীবননগর থানার ওসি মামুন হোসেন বিশ্বাসের নামও এসেছে এই বিতর্কে। অভিযোগকারীরা বলেন, “ওসি মামুন চোরাকারবারীদের সহায়তায় কল্পিত মামলাটি নথিভুক্ত করেছেন। কেন তিনি যাচাই না করেই মামলা নিলেন, তা রহস্যজনক।”

তাদের দাবি, এই ছিনতাই নাটক মামলায় যারা এজাহারভুক্ত তারা সকলেই নির্দোষ। তাদের মোবাইল লোকেশন যাচাই করলেই উঠে আসবে চাঞ্চল্যকর মামলায় ফাঁসানোর তথ্য ! স্বর্ণের দাবিদার আকিদুল, এসবি জুয়েলার্সের মালিক সজিব, সাক্ষীগণ শাহাজামাল ও তার ছেলে মুরাদ এবং তার নাতী ছেলে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মামুন হোসেন বিশ্বাসের হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জার অথবা মোবাইল ফোন কল তালিকা তুলে যাচাই করলে বেরিয়ে আসবে প্রকৃত ছিনতাই রহস্য।

ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, মামলাটি নথিভুক্ত করতে ঢাকার এক অতিরিক্ত আইজিপি চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারকে ফোন করেছিলেন—এমন দাবি করেছেন স্বয়ং ওসি মামুন হোসেন। এই বক্তব্য জনমনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে—সত্যিই কি ওপর মহলের চাপে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছিল?

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা বলেন, “আমরা নির্দোষ। প্রকৃত চোরাকারবারীরা বেঁচে গেছে, সাধারণ মানুষ বলির পাঁঠা হয়েছে। আমাদের নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে লাগাতার আন্দোলন চলবে।” তারা আরও জানান, যদি সুষ্ঠু তদন্ত না হয়, তবে তারা আদালতের আশ্রয় নেবেন।

ভুয়া মামলা নথিভুক্ত করার বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে ঠিকই কিন্তু এটার তদন্ত করা হবে। ভুয়া মামলা তদন্তের আগেই কিভাবে চাপিয়ে দেয় ও অভিযোগে শ্রমজীবী নিরীহ মানুষদের কেন আটক করা হলো – এমন প্রশ্ন করা হলে কোন জবাব দিতে পারেননি ওসি।